আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউরোপে বাস করেন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মুসলিম। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের এসব মানুষ সেখানে ভালো নেই। গবেষণাধর্মী সংস্থা নিউ হরাইজন প্রজেক্টের পরিচালক শাদা ইসলাম ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে এক নিবন্ধে ফুটিয়ে তুলেছেন বিষয়টি।
শাদা লিখেছেন, ইউরোপে যখন মুসলিম বিদ্বেষের উত্থান নিয়ে লিখি, তখন একটি বিষয় বারবার শুনি– আমরা সব মুসলিম খুবই ধার্মিক, সহজেই চরমপন্থা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ি, নিজস্ব আলাদা সমাজে বাস করি, বিশেষ করে যেসব নারী হিজাব পরে, তারা ধর্মান্ধ পিতৃতান্ত্রিক নিপীড়নের শিকার। আমরা শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের স্থান দখলের চেষ্টা করছি।
Manual4 Ad Code
ইউরোপের দেশগুলো মুসলিমদের নির্দেশনা দেয় মূল ইউরোপীয় সমাজের সঙ্গে একীভূত হওয়ার জন্য, আমাদের বলে আলাদা না থেকে আরও বেশি ইউরোপীয় হতে, ইউরোপীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করতে। যার মধ্যে আছে মদ পান ও শূকরের মাংস খাওয়া। এসব করে যেন আমরা ইউরোপের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক জীবনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। দিনে দিনে ইউরোপে মুসলিমদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে ১৪ মাস আগে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর।
Manual2 Ad Code
তিনি বলেন, সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে ইসরায়েলি ফুটবল দল ম্যাকাবি তেল আবিবের সমর্থক ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে মারামারির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এ ঘটনার পর ইউরোপীয় সরকারগুলো এমন বিষয় বুঝিয়েছে, বর্তমানে ভালো ও খারাপ মুসলিমদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যারা ইউরোপীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশেছে, তাদেরও সমস্যা আছে; যারা মেশেনি, তাদেরও সমস্যা আছে।
নেদারল্যান্ডসের মুসলিমবিদ্বেষী এমপি গার্ট উইল্ডার্স মিথ্যা দাবি করেছেন, আমস্টারডামে ইসরায়েলিদের যারা মেরেছে, তারা মরক্কোর মানুষ। যারা এই হামলায় সঙ্গে জড়িত, তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে মরক্কোতে ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কফ এটিকে ইহুদিবিদ্বেষ উল্লেখ করে বলেছেন, ইউরোপীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে, শিশুদের সতর্কভাবে লালনপালন করে এবং শিক্ষার মাধ্যমে এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এসব মন্তব্যের পর মরক্কো বংশোদ্ভূত মন্ত্রী নোরা আখবার পদত্যাগ করেন।
Manual5 Ad Code
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্মকর্তার কথা উল্লেখ করে শাদা বলেছেন, তিনি আমাকে বলেছেন, ইউরোপীয় সমাজে মুসলিমদের এখনও গ্রহণ করা হয় না। তারা ভাষায় যতই দক্ষ হোক, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করুক, সঠিক পোশাক পরুক– কিছু সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ বলে ওঠেন, তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মুসলিমরা যায় না।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, একটা সময় ইউরোপীয় ইহুদিদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হতো। সেটি কেটে গেছে। একদিন মুসলিমদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি পরিবর্তিত হবে, ইউরোপীয়রা ভিন্নতাকে মেনে নেবে। তবে এ ক্ষেত্রে মুসলিমদের বেশি করে আওয়াজ তুলতে হবে।