প্রজন্ম ডেস্ক:
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে একের পর এক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় এত মানুষ হতাহত হয়েছেন যে অনেক হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সংঘর্ষে নিহতদের মরদেহ রাখার জায়গা হচ্ছে না। তাদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকসহ হাসপাতালগুলোর কর্মীরা।
ইরানের তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিবিসিকে জানান, তাদের হাসপাতালগুলাে সংঘাত-সহিংসতায় আহত ও নিহতদের ভিড় সামলাতে সমস্যায় পড়ছে। হতাহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে।
তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, "অনেক তরুণের মাথায় এবং বুকে সরাসরি গুলি লেগেছে।"
এদিকে, ইরানে সহিংস পদ্ধতিতে বিক্ষােভ দমনের জবাব সামরিক হামলার মাধ্যমে দেওয়া হবে বলে শুক্রবার পুনরায় হুশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান অভিযােগ করেছে, দেশটির শান্তিপূর্ণ বিক্ষােভকে 'সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক ভাঙচুর' এর রূপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের অভিযােগের জবাবে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘ইরান এখন ‘স্বাধীনতা’ চায়, হয়ত অন্য যে কােনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরােপুরি প্রস্তুত।’’
দুই সপ্তাহ আগে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচি দিয়ে দেশটিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষােভ শুরু হয়েছিল। ক্রমে সে বিক্ষােভ দেশটির সব প্রদেশে এবং শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রমে তা সহিংস হয়ে ওঠে। ধারনা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনীর হামলায় ইতিমধ্যে শত শত বিক্ষােভকারী নিহত ও আহত হয়েছেন। বহু মানুষ আটক হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত ও নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন।
রাশত্ শহরের পুরসিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাতে ৭০ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। কিন্তু হাসপাতালের মর্গে এত মরদেহ রাখার জায়গা ছিল না, ফলে অনেক মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সংঘর্ষের ঘটনার পর হাসপাতালটিতে রোগির চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, আহতদের কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) করার পর্যন্ত সময় ছিল না বলে জানান সেখানকার চিকিৎসকরা।
তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, প্রায় ৩৮ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে... বিশেষ করে যাদের মাথায় ও হৃদপিণ্ডে সরাসরি গুলি লেগেছে। এছাড়া গুলিতে আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন। সংঘর্ষে এত বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যে মর্গে মরদেহ রাখার জায়গা নেই। এ অবস্থায় একটির ওপর আরেকটি মরদেহ রাখা হয়। এক পর্যায়ে মর্গে জায়গা না হওয়ায় প্রার্থনা কক্ষে নিয়ে গিয়ে মরদেহগুলো স্তূপাকারে রাখা হয়। হতাহতদের বেশিরভাগই তরুণ। তাদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
মরদেহ হস্তান্তরের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্বজনদের কাছে সাত বিলিয়ন রিয়াল, যা প্রায় সাত হাজার মার্কিন ডলারের সমান অর্থ চেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিবিসি-সহ বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের ইরানের ভেতর থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারছে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরিভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যার ফলে তথ্য পাওয়া ও যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরান থেকে পাওয়া শুক্রবার রাতের কিছু ভিডিওতে তেহরানের রাস্তায় নেমে যানবাহনে আগুন দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। এছাড়া রাজধানী তেহরানের কাছে কারাজে একটি সরকারি ভবনেও আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় সেটি সামাল দিতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর রীতিমত বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
দেশটির পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতের সহিংসতা চলাকালে তেহরানে অন্তত ২৬টি ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। যদিও ওইসব ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে একাধিক সমন্বিত সতর্কতা জারি করেছে ইরানের সরকার। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সশস্ত্র হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তারা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুক্রবার এক ভাষণে বলেছেন, কয়েক লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ক্ষমতায় এসেছে। বিক্ষোভের মুখে তারা পিছু হটবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ইরানে বিক্ষোভ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেন আলি খামেনি। - বিবিসি বাংলা
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com