প্রজন্ম ডেস্ক:
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার চাহিদা বেশি দেখিয়ে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে, যার অনেকগুলোর প্রয়োজনই ছিল না। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীস্বার্থ বিবেচনায় নির্মিত এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। ফাঁপানো চাহিদার বিদ্যুৎ গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রীষ্মকালে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে গড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। শীতে ১০ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মহাপরিকল্পনায় বিদ্যুতের চাহিদার অতি মূল্যায়নের ফলে উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি অব্যবহৃত থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ চাহিদার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি রাখা হয়, যাকে রিজার্ভ মার্জিন বলে; যা মূলত অব্যবহৃত থাকে। এ হিসাবে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ২১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই হয়।
বাংলাদশে ক্যাপটিভ (শিল্পের নিজস্ব বিদ্যুৎ) ও নবায়নযোগ্য জ¦ালানির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন ৩২ হাজার ৩৬২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট, গত বছরের ২৩ জুলাইয়ে।
বিদ্যমান সক্ষমতার বাইরে রূপপুরসহ নতুন কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ চলছে। এসব কেন্দ্র থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ আরও প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে। তখন উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি হবে। এ সময়ে কিছু পুরনো ও অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) বলছে, ২০৪০ সালেও দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২৯ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে বাড়তি বিদ্যুৎ বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার একটি কারণ ক্যাপাসিটি চার্জসহ রেন্টাল বা ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রগুলো তিন থেকে পাঁচ বছর পর বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। সেগুলোর চুক্তি বারবার নবায়ন করা হয়েছে। ফলে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায় ১৫ বছর পরও চালু রয়েছে।
২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেসরকারি ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ২৫১ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ গুনতে হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ সময়ে পিডিবির নিজস্ব, সরকারি ও যৌথ (সরকারি-বেসরকারি) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৮৩ হাজার ৪২১ কোটি টাকা।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি ও যৌথ বিদ্যুৎকেন্দ্র অনেক কম নির্মাণ করা হয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র অনেক বেড়েছে।
বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদন না করলেও সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয় তাদের, যাকে ক্যাপাসিটি চার্জ বলে। পরিকল্পনা কমিশনের এক গবেষণায় ক্যাপাসিটি চার্জকে ‘লুটেরা মডেল’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পিডিবির কর্মকর্তারা ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
বাড়ছে লোকসান ও ভর্তুকি : ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা টানতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে পিডিবিকে। গত ১৭ বছর লোকসানে চলা সংস্থাটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে ছিল ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা।
বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাইকারি দরে বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করে পিডিবি। কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত জ¦ালানির দামও পরিশোধ করে সংস্থাটি। বিশ্ববাজারে এখন জ¦ালানির দাম সর্বনিম্ন। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কিছু কমছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নানা উদ্যোগের ফলে প্রায় ৮০০ কোটি সাশ্রয় করেছে। না হলে লোকসান আরও বাড়ত বলে মনে করছেন পিডিবির কর্মকর্তারা।
লোকসান বাড়ায় ভর্তুকির চাপও বাড়ছে সরকারের। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তুকি বেড়ে ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা হয়েছে; আগের বছরে ছিল ৩৮ হাজার ২৯০ কোটি টাকা।
গণশুনানি ছাড়াই ২০২৩ সালে তিন দফায় খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে সরকারের নির্বাহী আদেশে। এতে দৈনন্দিন ব্যয় বাড়লেও লোকসান ও ভর্তুকি কমেনি।
গলার কাঁটা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুসন্ধান ও উৎপাদনে ব্যাপক অবহেলা হয়েছে। ফলে এখন গ্যাস সংকট প্রকট। জ¦ালানির অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারলেও, বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে গিয়ে পিডিবির লোকসান বাড়ছে।
পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সংকট জেনেও রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকটা জোর করেই ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলো হলো, সামিট মেঘনাঘাট ৫৮৩ মেগাওয়াট (২), ইউনিক ৫৮৪ মেগাওয়াট এবং জেরা ৭১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।
ইউনিক পাওয়ারের ৫৮৪ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকন্দ্রটি চলেছে মাত্র ২৭০ দিনের মতো। গ্যাস সংকটের কারণে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোও যায়নি। সামিট মেঘনাঘাট-২ কেন্দ্র চলেছে ২১০ দিনের মতো। জেরা ৭১৮ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি চলেছে মাত্র দেড় মাস।
গ্যাসের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন না করলেও গত দেড় বছরে ওই তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বিল করেছে ৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে ইউনিক ও সামিট বিল করেছে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি।
খুলনায় তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পিডিবির ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বৈত জ¦ালানির বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড ২০১৬ সালে খুলনায় ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কম্বাইন্ড সাইকেল বিদু্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে। গ্যাসের অভাবে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। এমন একটি লোকসানি ও অযৌক্তিক প্রকল্পের পরও সেখানে আরেকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিংয়ের কাজ চলছে এখন। কিন্তু এটির জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা সহসা নেই।
বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও এসব কেন্দ্রের পেছনে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বাবদ বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে পিডিবিকে। অভিযোগ রয়েছে, গ্যাস সংকট জেনেও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এবং আওয়ামী লীগ আমলের প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার জন্যই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রাথমিক তদন্তে এসব প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বছরে উৎপাদন সক্ষমতার ৭ শতাংশের নিচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে বেসরকারি খাতের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। যেমন মধুমতী বাগেরহাট ১০৫ মেগাওয়াট, ঘোড়াশালের রিজেন্ট ১০৮ মেগাওয়াট, ওরিয়নের মেঘনাঘাট ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।
১১ শতাংশের নিচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তালিকায় রয়েছে সামিটের বরিশাল ১০০ মেগাওয়াট, ডিজিটাল পাওয়ারের ১০০ মেগাওয়াট, ওরিয়নের ১০৫ মেগাওয়াট ও ইউনাইটেডের পায়রা ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। চাহিদা না থাকায় এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন না করলেও প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
প্যারামাউন্ড নামের একটি কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ টাকা করে বিক্রি করে পাঁচ বছরে নিয়ে গেছে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। কেরানীগঞ্জের এপিআর এনার্জি ৩০০ মেগাওয়াটের ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৩ টাকা। এগ্রিকো বাংলাদেশ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট ৪০ টাকার বেশি দরে বিক্রি করা হয়েছে পিডিবির কাছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নামে লুটপাট : বিগত সরকারের আমলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমতি দিতে বিপুল পরিমাণ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণও মিলেছে বিভিন্ন কমিটির তদন্তে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে অন্তত ৬০০ কোটি ডলার নয়ছয় হয়েছে। ডলারের বিপরীতে বর্তমান টাকার দর ধরে, যা প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দিতে কমিশন হিসেবে লুটপাট হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার। আর বিদ্যুৎকেন্দ্র না চালিয়ে কেন্দ্রভাড়া ও অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে বেসরকারি খাত নিয়ে গেছে বাড়তি ৩০০ কোটি ডলার।
শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন বলছে, ২০১০-১১ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া হিসেবে। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতার ৪২ থেকে ৪৬ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। অন্তত ৩০০ কোটি ডলার (৩৬ হাজার কোটি টাকা) কেন্দ্র ভাড়া নিয়েছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অভিযোগ, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে শুধু ২০২২ সালেই বিদ্যুৎ খাতে লোপাট হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার সিংহভাগই গেছে আওয়ামী লীগ সরকার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন কোম্পানির পকেটে।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ প্রতিযোগিতামূলক হলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় অনেক কমে আসত। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিয়ে লাভবান করা হচ্ছে বেসরকারি কেন্দ্রের মালিকদের। সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় তাদের বিদ্যুতের দামও বেশি। এতে ভোক্তার ওপর চাপ পড়ছে। সরকারের ভর্তুকি বাড়ছে। এটি বিদ্যুৎ খাতের ‘ডিজাস্টার’।”
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com