প্রজন্ম ডেস্ক:
প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি সরকার এখনই প্রশাসন ঢেলে সাজাবে, নাকি ধীরে চলবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
এর আগে তিনবার রাষ্ট্র পরিচালনা করা দলটির এবারের সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়া তারেক রহমান, তার সরকার প্রশাসনে কতটা হাত দেবে? তা নিয়েও কৌতুহল রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন প্রতিমন্ত্রীকে। কার্যত মন্ত্রণালয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেই রয়েছে।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের ও বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, নতুন সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার হিসেবে নিলেও প্রশাসনে ‘নিবিড় নিয়ন্ত্রণ’ রাখারও পক্ষে।
তারা বলছেন, নতুন সরকারের সামনে প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত’ করা অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তবে প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ বা অতিমাখামাখিতে যাবে না।
এরইমধ্যে প্রশাসনের কেন্দ্র সচিবালয়ে কিছু রদবদলের আভাস মিলছে। রদবদল আসার সম্ভাবনা আছে মাঠ পর্যায়েও।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ থেকেই প্রশাসনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, এমন আভাস পেয়ে নিজে থেকে সরে যেতে চাইছেন বেশকিছু সচিব।
বিশেষ করে চুক্তিতে থাকা কয়েকজন সচিবের জায়গায় নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু পদে পরিবর্তন আসতে পারে আগামী সপ্তাহে।
ইতোমধ্যে এসব নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। বদলি হতে পারেন ধরে নিয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন অনেকেই।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনের ইতি ঘটে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দলীয়করণের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকদিনের মাথায় পরিবর্তনের হাওয়া লাগে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে; দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বঞ্চিতদের ভিড়ে মিছিল-সমাবেশের মত পরিস্থিতি তৈরি হয় সেখানে।
দীর্ঘদিন কোণঠাসা কর্মকর্তারা ভালো পদায়নের প্রত্যাশায় ধর্ণা দিতে শুরু করেন। জনপ্রশাসন ভবনের বারান্দায় দেখা যায় কর্মকর্তাদের জটলা।
প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর দুই ধাপে ৫৯ জেলায় নতুন ডিসিকে পদায়ন করে।
এ নিয়োগের পর আগের সরকারের সময়ে নিজেদের বঞ্চিত দাবি করে অনেক সরকারি কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দাবি তুলে টানা কয়েকদিন জনপ্রশাসন সচিবের দপ্তরের সামনে মহড়া দেন।
পরে ‘বিগত সরকারের দোসর ও সুবিধাভোগীরা নতুন করে ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন’ এমন অভিযোগও তোলা হয়। তখন নয়জন ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়।
ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও খবর আসে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে মঙ্গলবার সরকার গঠন করেছে বিএনপি। বুধবার মন্ত্রণালয়ে অফিস করেছেন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর একজন মন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টা বলেছেন, বিএনপি দলীয়ভাবে ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসননির্ভর সরকার না হওয়ার ইঙ্গিত আরও আগেই স্পষ্ট করেছেন। প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি না করে, দ্বন্দ্ব তৈরি না করে তার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরির পরামর্শ তার রয়েছে।
এক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একতরফা আমলাতন্ত্রের সঙ্গে বিরোধ না ঘটিয়ে সামনের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, বলছেন তারা।
তারা দাবি করছেন, প্রশাসনে দ্রুত রদবদল ঘটছে না। বিভিন্ন ক্যাডারের লোকজন তদবিরে উঠেপড়ে লাগলেও খুব একটা বদল আসবে না। রাজনৈতিক বিবেচনায় রদবদল হলেও তার সংখ্যা হবে কম।
বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন, প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ বা অতিমাখামাখিতে যাবে না বিএনপির নতুন সরকার। বিশেষ করে ‘রিকনসিলিয়েশন’ নিয়ে যে আলোচনা ইতোমধ্যে ইশেতহারেও এসেছে, তা বাস্তবে রূপ দিতে প্রশাসনকে প্রধান ভূমিকায় পেতে হবে।
তবে নির্বাচনের আগে-পরে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তে প্রশাসন নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে আভাস পাওয়া গেছে।
নির্বাচনের দুইদিন পর শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদকে সরিয়ে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তাতে বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে ‘অসম্মতি জানানো’ হলে সোমবার ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে।
সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তবর্তী সরকার গঠনের পর প্রশাসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের অনুসারীরা প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসনে রদবদলের বিষয়টি সরাসরি তিনি দেখভাল করবেন বলে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একাধিক সংলাপে প্রতিশ্রুতি দেন।
সচিবালয়ে বিভিন্ন কাজে যুক্ত জামায়াত ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেছেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর সচিবালয়সহ সারাদেশেই প্রশাসনে জামায়াত ও এনসিপিপন্থিরা নিজেদের প্রকাশ্য করেছেন। ফলে বিএনপিপন্থিরা তাদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। সচিবালয় থেকে শুরু করে প্রশাসনের সব স্তরেই বিএনপিপন্থিরা প্রভাব রাখার চেষ্টা করবেন বলে তিনি মনে করেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে জামায়াতপন্থিদের অনেকে আছেন।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলছেন, আমলাতন্ত্রের একটি সাধারণ উৎসাহ-তারা আলাদা সত্তা হিসেবে থাকতে চায়। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে সেটা বেড়ে গিয়েছিল। বিএনপি সরকারের উচিত হবে এটি বন্ধ করা। দ্বিতীয় হল, প্রশাসনে গুপ্ত জামায়াত আছে, তাদের চিহ্নিত করা। কারণ, গুপ্তরাই বিএনপিকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করবে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একজন নেতা বলেছেন, প্রশাসনে পদোন্নতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের সরকারের সময়ে প্রশাসনকে ‘দলনির্ভর’ না রাখার যে চেষ্টা ছিল, তা তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।
দলের একাধিক নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগের পতনের পরই প্রশাসনে বিএনপিপন্থিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে দলটির অনুসারীদের একটি অংশ নিজেদের সংগঠিত করেছেন। একাধিকবার সচিবালয়ে প্রতিবাদমুখর হয়েছেন। যাদের অনেকেই এখন সরকারে দায়িত্ব পেয়েছেন।
নির্বাচনের আগে ইশতেহারে প্রশাসন নিয়ে দলীয় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে বিএনপি।
এর মধ্যে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পেশাদারত্ব বৃদ্ধি ও দলীয়করণ রোধ উল্লেখযোগ্য।
দলের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতারা বলেন, প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে গিয়ে দলীয়করণ করলে ইশতেহার বাস্তবায়ন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
প্রশাসনে ‘নিরপেক্ষ শাসনাচার’ গড়ে তুলতে না পারলে পুলিশ কমিশন ও সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, স্বতন্ত্র তদন্ত সার্ভিস চালু, পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকার ভাতা চালু করাসহ নানা ধরনের যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে, এগুলো অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মনে করছেন তারা।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “নতুন সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। এরমধ্যে প্রশাসন সুন্দরভাবে পরিচালনা করা একটি অন্যতম প্রধান কাজ। নতুন সরকারের কাছে এটি প্রাধান্য পাবে বলে মনে করি।”
বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি তার মায়ের সঙ্গে কাজে অভিজ্ঞ সাবেক আমলা ইসমাইল জবিউল্লাহকে উপদেষ্টা হিসেবে ও মুখ্য সচিব পদে এবিএম আব্দুস সাত্তারকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই তিনজনের সঙ্গে প্রশাসনে বিষয়ভিত্তিক কার্যক্রমের পরামর্শ দেবেন একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার উপদেষ্টা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমরা কেবল নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছি। আলাপ-আলোচনার পর অগ্রাধিকার বা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো।”
প্রশাসনে রদবদল আসছে?
একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। তখন কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা ছিল না। প্রশাসন ক্যাডারে সবসময়ই একটা শৃঙ্খলা বজায় থাকে, যেটা দেড় বছরে ছিল না।
“শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে অতিদ্রুত ব্যাচ অনুযায়ী পদায়ন দেওয়ার কথা। আর সেটা যেহেতু হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে সচিবসহ বেশকিছু পদে রদবদল হবে। আর সেটা তো বৃহস্পতিবার থেকেই হওয়ার কথা।”
এই কর্মকর্তা বলেন, “এছাড়া আগের ১৭ বছর এবং পরের দেড় বছর ধরে পদায়ন আটকে রাখা বহু কর্মকর্তা আছেন, বিভিন্ন অজুহাতে খারাপ পোস্টিং পেয়েছেন, তারা তো এখন ব্যাচ অনুযায়ী পদায়ন প্রাপ্য। সব মিলিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসনেও ব্যাপকভাবে রদবদল হবে।”
সেটা কি নতুন সরকারের প্রভাবের কারণে হবে? জবাবে এই অতিরিক্ত সচিব বলেন, “এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে ব্যাচ অনুযায়ী পদায়ন তো দিতে হবে, সেটা মন্ত্রীরা না চাইলেও হবে। তবে এখন পর্যন্ত যা দেখছি, অফিসারা নিজেদের এমপি মন্ত্রীর কাছে ভিড়ছেন, সেই সুযোগ কি আর কেউ ছাড়ে। তবে এবার শৃঙ্খলার বাইরে কিছু করার সুযোগ থাকবে বলে মনে হয় না।”
আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, “গত সরকারের সময় বিভিন্ন কারণে শাস্তি পাওয়ারাও সুবিধা নিয়েছে, বিভিন্ন অপরাধে গুরুদণ্ড প্রাপ্তরাও বৈষম্যের শিকার দাবি করে সুবিধা নিয়েছে, নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে এসব কর্মকর্তাদের বাদ দিলে তো অনেক রদবদল করতে হবে।
“নতুন সরকার তো বলেছিল, জনপ্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষ কর্মকর্তা নেবে। তখন পুরনো এসিআর ঘাঁটলে অনেকে দেখবেন নিজেরাই সরে দাঁড়াচ্ছে।”
মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত সরকারের ইচ্ছায় অনেকে পদায়ন পেয়েছে, এখন তাদের সিনিয়র ব্যাচ ভিত্তিক নেতারা পদায়নের বিষয়টা নিয়ে আলাপ আলোচনা করছেন, দু-একদিনের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু হবে বলে আভাস দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের অধ্যাপক সাদিক হাসানের পর্যবেক্ষণ, “আমাদের অতীতের ইতিহাস বলে যে, আসলে একটা পর্যায়ে সরকার আর দল একাকার হয়ে যায় এবং সরকারটা তখন মুখ্য হয়ে ওঠে, দলের যে ভূমিকাটা সেটা আসলে গৌণ হয়ে যায়।”
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তবর্তী সরকারের সময় পেরিয়ে বিএনপির সরকার গঠনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আসলে আমরা আশা করতে পারি যে, সেই মানে পুরনো ইতিহাসটা বা পুরনো অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে তারা (বিএনপি) সরকার পরিচালনা করবেন।”
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com