প্রজন্ম ডেস্ক:
আয়বৈষম্য সৃষ্টি করে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বেসরকারি এবং যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আয়বৈষম্য সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করে। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় সরকারি কোম্পানিগুলোকে চুক্তি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ সক্ষমতা হারাবে। ফলে বিদ্যুৎ খাতের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে বেসরকারি কোম্পানির হাতে চলে যাবে। এতে সরকার বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হবে।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার বরাবর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এর আগে চিনি, পাট, বস্ত্র, কাগজকল ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটেছে। সঠিক নীতি ও পরিচালনার ব্যর্থতার কারণে এই চার খাতে সরকারি অংশীদারত্ব লোকসান করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য খাতে ঠিক এর বিপরীত চিত্র ছিল সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোতে। প্রতিটি কোম্পানিই প্রতি বছর মুনাফা করেছে। এতে সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়নি। নিজস্ব বিনিয়োগ সক্ষমতা সৃষ্টি হওয়ায় দাতাগোষ্ঠী এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কোম্পানিগুলো নতুন নতুন কেন্দ্র নির্মাণ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেনার দায়ে ডুবতে বসা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নতুন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ঋণ পেতে ব্যর্থ হয়। তখন বিশ্বব্যাংকসহ দাতাদের পরামর্শে বিদ্যুৎ খাত সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে সরকারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানি গঠন করা হয়। এতে নতুন নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলে সরকারি কোম্পানিগুলো। এসব কোম্পানির শতভাগ শেয়ারের মালিকানাও সরকারের হাতে রয়েছে।
দেখা যায়, সরকারি সব কোম্পানিই বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে টেক্কা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনায় সরকারি কোম্পানিগুলো বেসরকারি কোম্পানির চেয়েও ভালো করছে। সরকারি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি), নর্থ ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (নরিনকো) এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক সেম্বকর্প ইন্ডাস্ট্রিজ দেশে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে।
কম দামে বিদ্যুতের বড় উৎস সরকারি কোম্পানি : পিডিবি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ টাকা ৪৭ পয়সায় উৎপাদন করেছে। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ টাকা ২৬ পয়সা। বেসরকারি খাতের আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৩-২৪ সালে উৎপাদন করেছে ১৩ টাকা ১৬ পয়সায় এবং ২০২৪-২৫ সালে ১৪ টাকা ৫৬ পয়সায়। ভাড়ায় চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৩-২৪ সালে প্রতি ইউনিট বিক্রি করেছে ১২ টাকা ৯০ পয়সায় এবং ২০২৪-২৫ সালে ৬ টাকা ৫২ পয়সায়। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি হয়েছে ২০২৩-২৪ সালে ১১ টাকা ৫৪ পয়সায় এবং গত বছর ১১ টাকা ৭২ পয়সায়। এর বিপরীতে দেশের সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ২০২৩-২৪ সালে প্রতি ইউনিট বিক্রি করেছে ৭ টাকা ৮ পয়সায় এবং ২০২৪-২৫ সালে ৭ টাকা ১৫ পয়সায়। পিডিবি প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কেবল এই অর্থবছরে পিডিবি সব কেন্দ্র থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৬০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ক্রয় করে। এর মধ্যে বেসরকারি খাত (আইপিপি) থেকে ৭২ হাজার ৭১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কেনা হয়। ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ২২৫ কোটি টাকার। এর বিপরীতে সরকারি খাত পিডিবি থেকে ১২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা এবং সরকারি কোম্পানির কেন্দ্র থেকে ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ক্রয় করা হয়। পিডিবি এবং সরকারি কোম্পানির অংশিদারত্ব বৃদ্ধি করা গেলে বিদ্যুৎ ক্রয়ে সরকারের সাশ্রয় করা সম্ভব।
আয় বৈষম্য সৃষ্টি করে কোম্পানিগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে : অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেই সংস্কার উদ্যোগ বেসরকারি, যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা কোম্পানিকে যুক্ত না করে এককভাবে সরকারি কোম্পানির সঙ্গে করা হচ্ছে। সব সরকারি কোম্পানির সঙ্গে আগে সই করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে এক্ষেত্রে সরকারি কোম্পানির কোনো আপত্তি কানে তোলেনি পিডিবি এবং বিদ্যুৎ বিভাগ।
পিপিএ সংশোধন করে কোম্পানিগুলোকে পুনরায় চুক্তি করার জন্য চাপ দিচ্ছে পিডিবি এবং বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু একইভাবে অন্যদের ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না। পিপিএ’র তিনটি জায়গায় সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। এর প্রথমটি হচ্ছে সরকারি কোম্পানির রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই) বা বিনিয়োগকৃত মূলধনের ওপর মুনাফার হার ১২ ভাগ থেকে কমিয়ে সরাসরি ৬ ভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো হয়েছে। কেবল সরকারি কোম্পানির একক মালিকানায় থাকা এই কোম্পানিগুলোর পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস বিলের হিট রেট নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। পিডিবির সদস্য কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স আ ন ম ওবায়দুল্লাহকে আহ্বায়ক করে পিপিএ সংশোধনের জন্য গঠিত একটি কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, পিপিএর উল্লেখিত হিট রেট ও প্রকৃত গ্যাস বিলের মধ্যে যেটি কম সেটি পিডিবিকে প্রদান করবে। এক্ষেত্রে পিডিবি সরাসরি সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানিকে নির্ধারিত হারে উৎসে কর কর্তন করে বিল পরিশোধ করবে। যদি হিট রেট অনুযায়ী কোম্পানির প্রাপ্য গ্যাস বিল থেকে প্রকৃত গ্যাস বিল বেশি হয় তাহলে অতিরিক্ত টাকার পরিমাণ কোম্পানির কাছ থেকে কেটে নেওয়া হবে। এতে করে সরকারের ৮০৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। কিন্তু কোম্পানির নির্বাহীরা বলছেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। চলতি বছর ধারণা করা হচ্ছে এই ভর্তুকির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। সেখানে এই অর্থ খুব একটা বড় প্রভাব ফেলবে না।
বিদ্যুৎ খাতের অন্য কোম্পানির আরওই কত : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি কোম্পানির আরওই ১২ ভাগ থেকে কমিয়ে ৬ ভাগ নির্ধারণ করা হলেও বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি আইপিপির আরওই ২০ থেকে ২৫ ভাগ। সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) নির্মাণ করা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরওই ১৮ ভাগ, আর বাংলাদেশের চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল)-এর আরওই ১৬ ভাগ। এমনকি পিডিবি খুব সামান্য পরিমাণ হলেও এসব কোম্পানির প্রকল্পে বিনিয়োগ করে থাকে। কোম্পানিগুলো সেই বিনিয়োগের ওপর ১৫ ভাগ লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। একইভাবে সরকার এসব প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর ১৬ ভাগ মুনাফা নিয়ে থাকে। যদিও পিপিএ পর্যালোচনা কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলছে, বিসিপিসিএলের আরওই ১৬ ভাগ থেকে কমিয়ে ১২ ভাগ করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির তিনটি ধারায় সংশোধন করলে বছরে ৮৭১ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। একইভাবে বিআইএফপিসিএলের আরওই ১৮ থেকে ১২ ভাগ কমিয়ে পিপিএর একই ধারা সংশোধন করলে ৯১৪ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। কিন্তু চীন এবং ভারতীয় কোম্পানি সরকারের প্রস্তাবে এতমত হয়নি বলে জানা গেছে।
সরকারি কোম্পানির প্রতিবেদনে কী আছে : প্রত্যেকটি কোম্পানি পৃথক প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছে, আয় বৈষম্য তৈরি করা হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আর্থিক ঘাটতিতে পড়বে। কোম্পানিগুলো যে প্রতিবেদন সরকারকে দিয়েছে, এর মধ্যে তিনটি প্রতিবেদন দেশ রূপান্তর সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, এখন পিপিএ সংশোধন করা হলে সবগুলো কেন্দ্র আর্থিক সংকটে পড়বে। ইজিসিবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, গত ১০ বছর তারা গড়ে ১৪২ কোটি টাকা করে মুনাফা করেছে। তাদের সম্পদ এবং বিক্রয় বিবেচনায় এই মুনাফা ১০ ভাগের মধ্যে রয়েছে। কোনোক্রমেই এই মুনাফাকে অতিরিক্ত হিসেবে দেখছে না কোম্পানিটি। স্থায়ী এবং পরিচালন ব্যয় কমিয়ে দিলে প্রত্যেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক ঘাটতি তৈরি হবে। কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কত ঘাটতি তৈরি হবে, তাও প্রতিবেদনে সরকারকে জানিয়েছে কোম্পানিটি। এনডব্লিউপিজিসিএল বলছে, পিপিএ সংশোধন করলে তাদের বার্ষিক মুনাফা ৩২৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা হ্রাস পাবে। গত বছর তারা মুনাফা করেছিল ৩৩২ কোটি টাকা। এই হিসেবে তাদের মুনাফা দাঁড়াবে মাত্র ২ কোটি টাকা। কোম্পানিটি বলছে, তাদের কেন্দ্রগুলো অপেক্ষাকৃত নতুন হওয়াতে সংরক্ষণ ব্যয় কম হচ্ছে। কেন্দ্রের বয়স বৃদ্ধি পেলে সংরক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর বাইরে তাদের প্রকল্পগুলোর মধ্যে দুটি কেন্দ্র ইসিএ ফাইন্যান্সিং বা ঠিকাদারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পিপিএ-তে বলা আছে, এসব ক্ষেত্রে ইভেন্ট অব ডিফল্ট বা (ইওডি)তে পড়বে কোম্পানিটি। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ট্রেজারি বন্ড এবং এফডিআর আমানতে সুদের হার ১১ ভাগ, যা ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এ ধরনের কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ না করে ব্যাংকে অর্থ রাখাই বেশি লাভজনক। এ ছাড়া কোম্পানিটি বলছে, তাদের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া সব কেন্দ্রের বয়স ৮ থেকে ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। এই অবস্থায় তাদের সংরক্ষণ ব্যয় দিন দিন বাড়ছে।
কোন কোন কেন্দ্রে আয় বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে : সরকারি কোম্পানির খোদ নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)-এর ময়মনসিংহ ২১০ মেগাওয়াট, কড্ডা ১০৫ মেগাওয়াট ও ৫২ মেগাওয়াট, রাউজান ২৬ মেগাওয়াট, বি আর পাওয়ার জোন (বিআরপিএল) কড্ডা ১৪৯ মেগাওয়াট এবং মিরেরসরাই ১৬৩ মেগাওয়াট, ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি (ইজিসিবি)-এর সিদ্ধিরগঞ্জ ২১০ মেগাওয়াট এবং ৩৩৫ মেগাওয়াট এবং হরিপুর ৪১০ মেগাওয়াট। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের আশুগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট, আশুগঞ্জ সাউথ ৩৫৭ মেগাওয়াট, নর্থ ৩৫৬ মেগাওয়াট, আশুগঞ্জ ইস্ট ৪০০ মেগাওয়াট এবং আশুগঞ্জ ইঞ্জিন ৫০ মেগাওয়াট এবং নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল)-এর সিরাজগঞ্জ ইউনিট-১ এর ২১৪ মেগাওয়াট, ইউনিট-২ এর ২২০ মেগাওয়াট, একই ক্ষমতার ইউনিট-৩, ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট, খুলনা ২৩০ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০৫ মেগাওয়াট মেগাওয়াট কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে আয় বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে।
কোম্পানির নির্বাহীদের বক্তব্য : জানতে চাইলে ইজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মনজুর কাদির বলেন, আমরা আমাদের কথা বলছি। কিন্তু এটি বিবেচনা করা না করা সরকারের বিষয়। আমরা যেহেতু সরকারি চাকরি করি, তাই আমাদেরকে সরকারের নির্দেশ মান্য করতে হবে। বিগত সরকার একটি অরাজনৈতিক সরকার ছিল। নতুন সরকার রাজনৈতিক ভবিষ্যতে দেশকে কোথায় দেখতে চান, এরকম একটি রূপরেখা রয়েছে। এই বিষয় মাথায় রেখে নতুন সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার আমাদের কাছে জানতে চাইলে আমরা বলতে পারি। কিন্তু সরকার না জানতে চাইলে তো আমরা বলতে পারি না।
আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন, পিপিএ পর্যালোচনা কমিটি সুপারিশের ভিত্তিতে এখন চুক্তি করার জন্য পিডিবির তরফ থেকে বলা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, এতে করে আমাদের সরকারি কোম্পানিগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। বেসরকারি খাতকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। আর তারাই এ ধরনের ভ্রান্ত নীতি প্রয়োগের চেষ্টা করছে, যা জনস্বার্থবিরোধী।
অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আমাদের সরকারি কোম্পানির যদি বিনিয়োগ সক্ষমতা থাকে, তাহলে তো দেশে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের সরকারি কোম্পানি মুনাফা করে ব্যাংকে রেখে দিচ্ছে কি না, সেটা দেখা উচিত। সরকারি কোম্পানি মুনাফা করে আবার তা নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে এটা সরকারের দেখা উচিত।
বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পিডিবির বক্তব্য : পিপিএ পর্যালোচনায় বিদ্যুৎ বিভাগের গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা বলেন, আরওই কমে গেলে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে পারবে না বিষয়টি এমন নয়। এ সবগুলো কোম্পানি সরকারি কোম্পানি, ফলে সরকার চাইলে তাদের অর্থ সরবরাহ করতে পারবে।
পিডিবি গঠিত কমিটির আহ্বায়ক, পিডিবির সদস্য কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স আ ন ম ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য এটি করেছি। ব্যয় সাশ্রয়ে কেন কেবল সরকারি কোম্পানির আয়ে কাঁচি চালানো হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে করা পিপিএতে বলা আছে, সরকার এবং বেসরকারি কোম্পানি একমত না হলে পিপিএ সংশোধন করা যাবে না। তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। কেন ব্যয় সংশোধন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি কোম্পানির কাছে অতিরিক্ত অর্থ থাকলে তারা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। এজন্য সরকার মনে করছে, এটা করা উচিত। যেহেতু সবকটি কোম্পানি সরকারি, তাই সরকার চাইলে ভবিষ্যতে এটি পরিবর্তনও করতে পারে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com