প্রজন্ম ডেস্ক:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অধিবেশনের আগেই মন্ত্রিসভাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদে আসতে পারে নতুন মুখ। জাতীয় সংসদেও যুক্ত হতে পারে নতুন হুইপ।
সংসদের বাজেট অধিবেশনেই গঠিত হতে পারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো। সরকার ও সংসদের বাইরে থাকা উল্লেখযোগ্য নেতাদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
প্রসঙ্গত, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আড়াই মাসে নানা চড়াই-উতরাইয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কল্যাণমুখী উদ্যোগ নানাভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। যেমনÑ খাল খনন কর্মসূচি, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি-প্লট না নেওয়া, সরকারি কর্মকর্তাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা কমানোসহ নানা উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। যদিও মন্ত্রিসভা ও বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের সম্পৃক্ত না করায় এবং দক্ষ অনেক এমপিকে দায়িত্বের বাইরে রাখায় সমালোচনাও হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় সংসদের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন করা হয়নি শুধু নারী সংসদ সদস্য না থাকার কারণে। ইতোমধ্যে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন হওয়ায় ও নারী এমপিরা শপথগ্রহণ করায় কমিটি গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে তারা অংশগ্রহণ করতে চলেছেন।
জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোর উত্থাপিত বিষয়গুলো খুব সাকসেসফুলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করা এবং প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাস করে আইনে রূপ দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।”
তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও নিষ্পত্তি হতোÑ যদি বিরোধী দল সহযোগিতা করত।”
কী হবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে ধারণা করা হচ্ছিল প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. মঈন খান ও ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেনকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কিন্তু সেটা এখনও হয়ে ওঠেনি।
প্রবীণ প্রাজ্ঞ ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারেÑ এমন জোর গুঞ্জন এখনও রয়েছে। যদিও শারীরিকভাবে তিনি বেশ অসুস্থ হওয়ায় জাতীয় সংসদে আসেন হুইল চেয়ারে করে।
ড. মঈন খানের শারীরিক অবস্থা অনেক ভালো এবং তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। সংসদে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন। তবে এখনও বিশেষ কোনো দায়িত্ব পাননি।
এ ছাড়াও এখনও দায়িত্বের বাইরে রয়েছেনÑ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, আমান উল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ ভুলু, ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, জোটের শরিক ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থসহ অনেক সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্য।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের আগেই এদের কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে পারলে রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি একজন উপ-রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের আরেকজন ডেপুটি স্পিকার পদ সৃষ্টি হবে।
এদিকে সংসদে সরকারি দলের একটি উপনেতার পদ এখনও শূন্য রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী একজন ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগেরও কথা রয়েছে।
সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন অধিবেশনের আগেই জাতীয় সংসদে আরেকজন হুইপ নিয়োগ করা হবে। নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য শিরীন সুলতানা অথবা হেলেন জেরিন খানকে সম্ভাব্য এ পদে ভাবা হচ্ছে। তাহসিনা রুশদী ও নায়াব ইউসুফ চৌধুরীসহ আরও কয়েক জনের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
জাতীয় সংসদের সরকারি দলের উপনেতা সাধারণত মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করে থাকেন। শারীরিক দিক বিবেচনায় নিয়ে অনেকে এ পদে ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান অথবা গয়েশ্বর রায়ের নাম আলোচনায় রেখেছেন।
সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে কাউকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে। একইভাবে জাতীয় সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও কাউকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি
জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত প্রথম অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে আগ্রহ ছিল সংসদ নেতার। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সংসদে আসার পরে আবার কমিটিগুলো পুনর্গঠন করার ঝামেলা এড়াতে তা করা হয়নি।
তবে আসন্ন অধিবেশনেই সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন করা হবে। এতে মন্ত্রিসভা, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় সংসদে দায়িত্ব দিতে না পারা নেতাদের স্থান দেওয়া হবে। বেশি গুরুত্ব পাবেন সিনিয়র সদস্যরা।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে আনুপাতিকভাবে ৩৫টি কমিটির সভাপতি পদ পাবে সরকারি দল, অবশিষ্টগুলো পাবে বিরোধী দল। সংসদীয় কমিটির সভাপতি কাদের করা যায় তার একটি প্রাথমিক তালিকাও করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
কমিটির সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ মো. জাহিদুর রহমান, কাজী রফিকুল ইসলাম, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, একেএম সেলিম রেজা হাবিব, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, আলী আসগর লবি, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হাফিজ ইব্রাহিম, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, মুজিবুর রহমান সরোয়ার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, লুৎফুজ্জামান বাবর, মো. ফজলুর রহমান, মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, আমানউল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, একেএম ফজলুল হক মিলন, শফিকুর রহমান কিরণ, এম নাসের রহমান, মুশফিকুর রহমান, মনিরুল হক চৌধুরী, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মোস্তফা কামাল পাশা, সরওয়ার জামাল নিজাম, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, লুতফর রহমান কাজল, ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও সাচিং প্রু জেরী।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com