প্রজন্ম ডেস্ক:
প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার এক রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সরকারের প্রভাবশালী এক উপদেষ্টার কারণে গ্যাঁড়াকলে পড়েছে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। দৈনিক মাত্র ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস না দেওয়ায় কেন্দ্রটির টেস্টিং এবং কমিশনিং করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায় কেন্দ্রটিতে এখন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
খুলনায় সরকারি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল)। বন্ধ নিউজপ্রিন্ট মিলের জমি থেকে ৫০ একর জমি নিয়ে কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে।
মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া কিছু প্রকল্প ব্যর্থ প্রমাণের প্রয়াস ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের।
রূপসা কেন্দ্রটি এজন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বেঁধে দেওয়া সময়ের বাইরে আর গ্যাস দিতে চাননি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো তিনি বলেছেন ‘আমিইতো গ্যাস দিতে বলেছিলাম’। অনুসন্ধান বলছে তিনি যেমন দিতে বলেছিলেন, আবার কাজ শেষ হওয়ার আগে বন্ধও করে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। এতে কেন্দ্রটি এক বছর পড়ে থাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘আমি গ্যাস দিতে দিইনি কে বলছে? আমিইতো বলেছি, ওখানে গ্যাস সরবরাহ করে কেন্দ্রটি চালু করতে। এখন চলে এসেছি, এখন অনেকে অনেক কিছু বলবেন।’
সব প্রকল্পের ব্যয় বাড়লেও রূপসা ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করেছে : কেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। বাড়তি সময়সহ নানা কারণে যেখানে সব প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায়, সেখানে রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করেছে। প্রকল্পটি শেষ করতে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা। এর সঙ্গে এনডব্লিউপিজিসিএল দিয়েছে ৭০ কোটি টাকা। বাকি ৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এডিবির সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রটি পড়ে থেকে নষ্ট হলেও সরকারকে এডিবির ঋণ শোধ করতেই হবে। কেন্দ্রটি বিকল্প কী উপায়ে চালু রাখা যায়, সেই দিকটি সবার আগে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মূল অভিযোগ : বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার আগে প্রতিটি যন্ত্র পরীক্ষা করতে হয়। ওই সময় সামান্য পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়। কেন্দ্রটি চালু করার জন্য ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
টেস্টিং এবং কমিশনিং পর্যায়ের সব কাজ ঘড়ি ধরে সময় মতো করা যায় না। ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নীরিক্ষার সময় কোনো ত্রুটি দেখা দিলে, তা দূর করে পরবর্তী ধাপে যেতে হয়। পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্যাবলে সমস্যা ধরা পড়ে। ত্রুটি সারিয়ে পুনরায় টেস্টিং শুরু করার উদ্যোগ নিলে ওই বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টার নির্দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন বলা হয় ১ মার্চ থেকে রমজান শুরু হচ্ছে ঈদের বন্ধ সময় পুনরায় গ্যাস দেওয়া হবে। কেন্দ্রটির কমিশনিং করার জন্য তিন দেশ থেকে প্রকৌশলীরা এসেছিলেন। প্রতিদিন তাদের মজুরি ছিল দৈনিক ৫০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৩০ দিনে ১৫ কোটি টাকা। ঠিকাদার বসিয়ে রেখে এই টাকা পরিশোধে সম্মত হয়নি। তখন এডিবির তরফ থেকে সরকারকে প্রতিদিন ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার আন্তরিক হলে এর মধ্যে ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কোনো কঠিন বিষয় ছিল না। কিন্তু এডিবি সরকারকে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করলে ফাওজুল কবির খান রেগে গিয়ে কেন্দ্রটির প্রকল্প পরিচালককেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি এখন সরকারের অন্য একটি কোম্পানিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে উপদেষ্টার বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির এক দিন আগেও গ্যাস সরবরাহ শুরু করেনি পেট্রোবাংলা। এমনকি পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহ সিস্টেমের রেগুলেটিং অ্যান্ড মিটারিং সিস্টেম (আরএমএস) পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন আধা মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। তখন পেট্রোবাংলায় বারবার যোগাযোগ করা হলেও তখনকার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার এই সামান্য পরিমাণের গ্যাসও দিতে চাননি।
কেন্দ্রটি নির্মাণের শুরুর গল্প : বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প কারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহের দাবি ছিল দীর্ঘ দিনের। সরকার খুলনা পর্যন্ত গ্যাসের একটি সঞ্চালন লাইনও নির্মাণ করেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ না থাকাতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল না। সূত্র বলছে, ২০১৩ সালে ভারতের হিরানন্দী গ্রুপের মালিকানাধীন এইচ এনার্জি পশ্চিম বাংলার একটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেয়। সরকার ওই সময় এনডব্লিউপিজিসিএলকে খুলনা কিংবা যশোরে একটি ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনে খুলনার নিউজ প্রিন্ট মিলের পরিত্যক্ত জমিতে কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এইচ এনার্জির সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ একটি টার্মশিট স্বাক্ষর হয়। ওই বছর শেষের দিকে এইচ এনার্জির সরবরাহ লাইন নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা আসায় গ্যাস সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর ২০১৭ সালে পেট্রোবাংলা গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দিলে কেন্দ্রটির কাজ শুরু করা হয়।
এখন কেন্দ্রটির কী অবস্থা : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রটির টেস্টিং কমিশনিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন কেন্দ্রটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে গেলে দেখা যায়, কেন্দ্রটি চালু হচ্ছে না। প্রথমে মনে করা হয় দীর্ঘ দিন পড়ে থাকার কারণে কেন্দ্রটির বিয়ারিংয়ে সমস্যা হয়েছে। প্রথমে বিয়ারিং আমদানির পর সেগুলো বদলালেও কেন্দ্রটি চালু হয়নি। এখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, কেন্দ্রটির রোটারে সমস্যা হয়েছে। রোটার হচ্ছে কেন্দ্রটির ঘূর্ণন যন্ত্র। প্রতিটি রোটারের দাম অন্তত ১০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে দুটি রোটার রয়েছে।
কেন্দ্রটি বাঁচাতে এখন কী করা উচিত : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর তা কম লোডে হলেও চালু রাখতে হয়। কেন্দ্র চালু না রেখে ফেলে রাখলে কেন্দ্রটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এই কেন্দ্রটিও এখন সেই সংকটে পড়েছে। একই কোম্পানির একটি কেন্দ্র রয়েছে ভেড়ামারায়। এই কেন্দ্রে প্রতিদিন ৫০ মিলিয়ন গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা। ভেড়ামারা থেকে খুলনা পর্যন্ত আর কোনো গ্যাসের গ্রাহক নেই। রূপসার জন্য আরও ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলে একটি ইউনিট ২০০ মেগাওয়াট লোডে চালানো সম্ভব। কেন্দ্রটির ৪৪০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট যদি পালা করে চালানো সম্ভব হয়, তাহলে কেন্দ্রটি বাঁচানো সম্ভব। এর সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশের উৎস বা বাইরে থেকে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ করার আগে এই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কেন্দ্রটিতে পেট্রোবাংলার মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ : কেন্দ্রটি নির্মাণে তত দিনে বিপুল বিনিয়োগ হয়ে যাওয়ায় সরকার প্রকল্পটি থেকে আর পিছিয়ে আসতে চায়নি। তখন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। এডিবি সরকার এবং পেট্রোবাংলা দফায় দফায় বৈঠক করে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয়। কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহ রুট নির্ধারণে ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল সরকারি চার প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির অবজারভার হিসেবে এডিবি প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়। সুযোগ পেয়ে পেট্রোবাংলা খুলনা শহরের মধ্য দিয়ে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির জন্য একটি পাইপ লাইন নির্মাণ করার শর্ত জুড়ে দেয়। এনডব্লিউপিজিসিএল ওই পাইপ লাইনটি নির্মাণ করেও দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে খুলনার রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি অনেকবার চেষ্টা করেও পাইপ লাইনটি নির্মাণ করতে পারেনি।
জোর করে গ্যাস সরবরাহ নেওয়ার দাবি পুরোপুরি মিথ্যা : অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেট্রোবাংলা থেকে দাবি করা হয় রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে জোর করে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি করেছে সরকার। কিন্তু পেট্রোবাংলার তরফ থেকেই সরকার এবং এনডব্লিউপিজিসিএলকে জানানো হয়, সরকার মহেশখালী এবং পায়রাতে দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করতে যাচ্ছে। টার্মিনাল দুটি চালু হলে দৈনিক আরও ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ শুরু হবে। ফলে তখন আর গ্যাস সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। পেট্রোবাংলা এই চুক্তিটি জোর করে করা হয়েছে এমন দাবি করলেও দেখা যায় এই পেট্রোবাংলাই ২০১৯ থেকে ২০২১ সালে আরও চারটি কোম্পানির সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি করছে। এই চার প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ২০১৯ সালের মার্চে সামিট মেঘনাঘাট ৫৮৩ মেগাওয়াটের সঙ্গে সঙ্গে দৈনিক ৮০ থেকে ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট, ইউনিক মেঘনাঘাট ৫৮৪ মেঘাওয়াটের সঙ্গে একই পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ চুক্তি করে ওই বছর জুলাই মাসে। এর ঠিক দুই মাস পরে ভারতীয় কোম্পানি রিলায়েন্স ৭১৮ মেগাওয়াটের সঙ্গে ১০০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশের আরেক বেসরকারি কোম্পানি ইউনাইটেড চট্টগ্রাম ৫৯০ মেগাওয়াটের সঙ্গে ৯০ থেকে ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ চুক্তি করে। এখন প্রশ্ন উঠেছে সরকারি কোম্পানি যদি জোর করে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি করে, তাহলে বেসরকারি কোম্পানিকে পরে কোন স্বার্থে চুক্তি করে দিল পেট্রোবাংলা। এমনকি পেট্রোবাংলা যে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি করেছে, তাতে লিখেছে নির্ধারিত সময়ে গ্যাস দিতে না পারলে, তারা জরিমানা গুনবে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণের কিস্তি সরকারের বদলে পেট্রোবাংলা পরিশোধ করবে। এখন পেট্রোবাংলা এই জরিমানা মওকুফ করার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত : পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন এটা ভালো দিক। তবে তিনি ভোলা থেকে বা পায়রাতে একটি এলএনজি টার্মিনাল করে কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি সময় সাপেক্ষ। এর আগেই কেন্দ্রটি চালু রাখতে হবে। এ জন্য প্রতিদিন অন্য কেন্দ্রে রেশনিং করে হলেও এখানে গ্যাস দিতে হবে। আর আমরাতো সব কেন্দ্রে রেশনিং করেই গ্যাস সরবরাহ করি। তাহলে কেন সরকারি এই কেন্দ্রটি ফেলে রাখা হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্র নির্মাণের ঋণ নিয়েছিল সাবেক সরকার। এখন কেন্দ্র চলুক বা না চলুক ঋণের অর্থ ফেরত দিতে হবে। কেন্দ্রটি চালু রেখেই সেই ব্যবস্থা করা উচিত। না হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্চা যাবে। সাবেক সরকারের গ্যাস সরবরাহ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সম্পদ পেলে সেই সম্পদ যতœ করে রাখা হয়। কিন্তু সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সম্পদ রক্ষায় যেভাবে অবহেলা করেছে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
কেন্দ্রটির প্রকল্প পরিচালক কী বলছেন : জানতে চাইলে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট প্রকল্প পরিচালক আসাদ হালিম বলেন, কেন্দ্রটি স্বল্প লোডে চালাতে পারলেও ভালো থাকবে। তারা চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com