প্রজন্ম ডেস্ক:
ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক লেনদেন ক্রমেই বাড়ছে। কেনাকাটা, বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন কাজে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করছেন গ্রাহকরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে দেশে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় ১০৩ শতাংশ। একই সময়ে দেশে ব্যাংক কার্ডের সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় ৯৬ শতাংশ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে কার্ডের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৭২২টি। চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ২৪১টিতে।
এর মধ্যে ডেবিট কার্ড চার কোটি আট লাখ ৮৭ হাজার ৮০৪টি, ক্রেডিট কার্ড ২৮ লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৯টি এবং প্রিপেইড কার্ড ৯২ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৮টি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, কার্ডের ব্যবহার বাড়ায় লেনদেন আরো সহজ হচ্ছে এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে নগদ টাকার প্রচলন, ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সেবাবিষয়ক সচেতনতার ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং লেনদেনের খরচের মতো বিষয়গুলো এখনো ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসারে বাধা হয়ে রয়েছে। এসব বাধা দূর করা গেলে দেশে কার্ডসহ ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার আরো বাড়তে পারে।
কার্ডের ব্যবহার বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা কিছুটা কমেছে।
গত আগস্টে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে চার হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের মাস জুলাইয়ে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ লেনদেন কমেছে ৫.৪৪ শতাংশ।
আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। এ খাতে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা, যা দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে মোট লেনদেনের ৪৮.১৪ শতাংশ। এ ছাড়া খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৫১৮ কোটি, ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ৪৪২ কোটি, ওষুধ কেনায় ২৮৪ কোটি, পোশাক কেনায় ১৯৬ কোটি এবং পরিবহন খাতে ১২৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন গ্রাহকরা।
দেশের বাইরে কার্ডে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে গত আগস্টে বিদেশে ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন গ্রাহকরা। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট বিদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের ১৭.১৬ শতাংশ হয়েছে। এরপর রয়েছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সিঙ্গাপুর। এসব দেশে যথাক্রমে ১০.৮৬, ৯.৭৫, ৯.১২ ও ৭.৯৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
অন্যদিকে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে গত আগস্টে ২৪৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন বিদেশিরা। আগের মাস জুলাইয়ে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২৩৪ কোটি টাকা। এক মাসে এ ধরনের ব্যয় বেড়েছে ৬.২৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩৪.৬৬ শতাংশ।
বাংলাদেশে বিদেশি কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। এ খাতে মোট ব্যয়ের ৩৫.২৫ শতাংশ হয়েছে। এ ছাড়া নগদ টাকা উত্তোলন, পরিবহন ও পোশাক কেনায় উল্লেখযোগ্য ব্যয় করেছেন বিদেশি কার্ডধারীরা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com