স্টাফ রিপোর্টার:
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। বেড়েছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, যেখানে কোনও শিক্ষার্থী পাস করেনি। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এবার মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯৩টিতে কোনও শিক্ষার্থী পাস করেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ১৩৯টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৪৫টি। এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ২০৬টি।
বোর্ডভিত্তিক ফল
সাধারণ শিক্ষা বোর্ড: ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ১৭৯ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ বোর্ডগুলোতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন ৮৯ হাজার ৩২১ জন। পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (ডিপ্লোমা ইন কমার্স) পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ২ হাজার ৯৪৭ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ৮৮৯ জন। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন।
পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা
এবারের ফলাফলে পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মেয়েরা। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, ছাত্রদের ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে।
এবার পরীক্ষায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন ছাত্রী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। অন্যদিকে ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন।
তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছেন। এবার ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
বিদেশ কেন্দ্রের ফল
বিদেশের আটটি কেন্দ্রে এবার ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৬৯ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এসব কেন্দ্রে একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। কোনও প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের ঘটনা ঘটেনি। বিদেশ কেন্দ্রে কোনও পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হননি।
পরীক্ষা পরিচালনায় যেসব পদক্ষেপ
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ইতিবাচক আন্তঃসম্পর্ক, শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, অভিভাবকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা পরিচালনা ফলাফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মন্ত্রী জানান, এবারের পরীক্ষা যথাসময়ে পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। উত্তরপত্র নির্ভুলভাবে মূল্যায়নের জন্য প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের কর্মশালার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
উত্তরপত্র মানসম্মতভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে পরীক্ষকদের ৩০০টি উত্তরপত্র দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। এ ছাড়া সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা রাখা হয়েছিল।
পরীক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের বসার জন্য শেড নির্মাণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com