প্রজন্ম ডেস্ক:
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণে সংস্থাভেদে ভিন্ন ভিন্ন দর ব্যবহারের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে সব সরকারি প্রকৌশল সংস্থার জন্য নির্মাণসামগ্রী, যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণে অভিন্ন দর চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যয় প্রাক্কলন ও দর অনুমোদনে চালু হবে ডিজিটাল ব্যবস্থা। প্রতি তিন বছর পর হালনাগাদ করা হবে দর তফসিল। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
একনেকের নির্দেশনায় গঠিত সরকারি ভৌত কাজের দর তফসিল মূল্যায়নপূর্বক পুনর্নির্ধারণ কমিটির প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর স্বাক্ষরিত ‘সরকারি ভৌত কাজের দর তফসিল হালনাগাদ ও সংস্কার প্রতিবেদন ২০২৬’-এ নির্মাণকাজের ব্যয় নির্ধারণে এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রকৌশল সংস্থা নিজস্ব দর তফসিল অনুসরণ করে নির্মাণকাজের ব্যয় প্রাক্কলন করে। ফলে একই ধরনের নির্মাণসামগ্রী ও কাজের ক্ষেত্রে সংস্থাভেদে দরের পার্থক্য তৈরি হয়।
আবার বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দর তফসিল নিয়মিত হালনাগাদ না হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলনেও অসংগতি দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতি দূর করতে সব সংস্থার জন্য অভিন্ন ভিত্তি দর ও দর বিশ্লেষণের সমন্বিত কাঠামো চালুর সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রতিটি নির্মাণ উপকরণ ও কাজের জন্য আলাদা ইউনিক কোড চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। এতে একই কাজের বিপরীতে সংস্থাভেদে ভিন্ন দর নির্ধারণের প্রবণতা কমবে এবং ব্যয় প্রাক্কলনে স্বচ্ছতা বাড়বে।
বর্তমানে সাধারণত তিন-চার বছর পর পর দর তফসিল হালনাগাদ করা হয়।
ফলে নির্মাণসামগ্রীর বাজারদর, পরিবহন ব্যয় ও শ্রমিকের মজুরি পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারি প্রাক্কলনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে প্রতি তিন বছর পর বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দর তফসিল হালনাগাদের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেও দর সমন্বয় করা যাবে।
দর নির্ধারণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সফটওয়্যারভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি প্রকৌশল সংস্থাগুলো একই প্ল্যাটফর্মে দরসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার ও সমন্বয় করতে পারবে।
অঞ্চলভেদে আলাদা দর : দেশের সব এলাকায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহন ও সরবরাহের ব্যয় সমান নয়। বিশেষ করে পার্বত্য, উপকূলীয়, দ্বীপ ও দুর্গম এলাকায় এসব সামগ্রী পৌঁছাতে বেশি খরচ হয়। এ বাস্তবতা বিবেচনায় অভিন্ন ভিত্তি দরের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক দরসূচক বা জোনাল ইনডেক্স চালুর সুপারিশ করেছে কমিটি। এতে ভৌগোলিক অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা ও পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন করা যাবে। এ ছাড়া প্রিকাস্ট ও প্রিফেব্রিকেটেড নির্মাণসামগ্রী, আধুনিক নির্মাণপদ্ধতি এবং পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ দর তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শুল্ক-কর ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ : নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার পেছনে শুল্ক-কর, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়মকে দায়ী করেছে কমিটি। প্রতিবেদনে অসাধু পরিবহন ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজি, মধ্যস্বত্বভোগী আমদানিকারকদের কারসাজি এবং বাজারে একচেটিয়া আধিপত্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় রড, পাথর ও বিটুমিনের ওপর আরোপিত শুল্ক-কর এবং ঠিকাদারি কাজের ভ্যাট ও কর কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে রডের ক্ষেত্রে ১৭.৭ শতাংশ এবং পাথরের ক্ষেত্রে ৬২.৭ শতাংশ শুল্ক-করের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com