ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারের জায়গা পাওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। নিজেকে প্রমাণ করে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে মরিয়া এই তারক। এরই মাঝে নতুন ঝামেলায় জড়িয়েছেন তিনি। ক্লাব সতীর্থকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নেইমারের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
গত রোববার (৩ মে) অনুশীলনে ক্লাব সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রকে ‘শারীরিকভাবে আঘাত’ করার অভিযোগে নেইমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সান্তোস।
সূত্র জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড রবিনহো জুনিয়র অনুশীলনে নেইমারকে ড্রিবল করে পেরিয়ে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অসম্মান করা হয়েছে ভেবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান নেইমার।
এক বিবৃতিতে সান্তোস জানিয়েছে, ‘সান্তোস ফুটবল ক্লাব তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে একই ক্লাবের আরেক খেলোয়াড়কে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হয়েছে।’
সূত্রগুলোর দাবি, রাগের মাথায় নেইমার রবিনহোকে জুনিয়রকে পা দিয়ে ঠেলে ফেলে দেন। এরপর দুজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সতীর্থরা গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করেন। ঘটনার পর রবিনহোকে জুনিয়র মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
সান্তোসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘটনার পরপরই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ক্লাবের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ তদন্ত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্লাবের আইন বিভাগকে।
রবিনহো জুনিয়র সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটি তারকা রবিনহোর ছেলে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোস্পোর্তে জানিয়েছে, রবিনহো নেইমারের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে ক্লাবে ‘ন্যূনতম নিরাপত্তার অভাব’ উল্লেখ করে তিনি চুক্তি বাতিলের বিষয়ে আলোচনার জন্য সান্তোস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের দাবিও জানিয়েছেন।
রবিনহো অভিযোগ করেছেন, নেইমার তাকে লক্ষ্য করে ‘অপমানজনক গালি’ দিয়েছেন, ল্যাং মেরেছেন এবং মুখে ‘জোরে চড়’ মেরেছেন। এ বিষয়ে ইএসপিএন যোগাযোগ করলে নেইমারের বার্তা অফিস থেকে জানানো হয়, সান্তোস অধিনায়ক নেইমার এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
ইএসপিএনকে সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন নেইমার। তিনি রবিনহো জুনিয়রকে ফোন করেন এবং যা ঘটেছে, সে জন্য রবিনহোর পরিবারের কাছেও বার্তা পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।



