স্পোর্টস রিপোর্টার:
ছুটি কাটিয়ে নারী ফুটবলাররা ক্যাম্পে ফিরলেও তারা অনুশীলনে যোগ দেননি। সাফ চ্যাম্পিয়ন ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার দুই দিন আগে ঢাকায় এসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কোচ খেলোয়াড়দের মিটিংয়ে ডেকে ছিলেন কিন্তু সাবিনারা আসেননি। তারা অনুশীলনেও যাননি। আর এ সব নিয়ে গতকাল দিনভর বাফুফে ভবন ছিল থমথমে। বাফুফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলেনি।
তবে জানা গেছে, নারী ফুটবলাররা কোচ হিসাবে পিটারকে মেনে নিতে রাজি নন। বাফুফের নির্বাচিত এক সদস্য জানিয়েছেন, 'আমরা মেয়েদের ফুটবল চালাই না, পুরুষ ফুটবল চালাই। মেয়েদের ফুটবল নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। মেয়েরা কোচ হিসাবে পিটারকে মানতে রাজি নন। এখন আমাদের প্রশ্ন কোচ কে হবেন, সেটা কি খেলোয়াড়রা নির্ধারণ করবেন? নাকি বাফুফে নির্ধারণ করবে? কোচ খারাপ কিছু করে থাকলে সেটি বাফুফে দেখবে। কোচকে বিদায় করে দেবে। খেলোয়াড়রা বলবেন, এই কোচ চলবে না, সেটা তো হয় না।'
ঐ সদস্য বলেন, 'কয়েক জন সিনিয়র ফুটবলার রয়েছেন, তারা ক্যাম্পের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি করছেন। এর মধ্যে সুমাইয়াসহ আমরা বেশ কয়েক জনের নাম শুনেছি। পাঁচ/ছয় জন ফুটবলার পিটারের কাছে অনুশীলন করতে চান না। এটা শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।'
কোচ পিটার বাফুফের কাছে ছয় ফুটবলারের নাম প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। ছয় ফুটবলার কোচ নিয়ে আপত্তি তুলে তাদের সঙ্গে থাকতে ক্যাম্পের জুনিয়র ফুটবলারদের বাধ্য করছেন। পিটারকে নিয়ে আপত্তিটা কী? ঐ সদস্য সূত্রের খবর হচ্ছে পিটার নাকি সিনিয়র ছয় ফুটবলারকে পাত্তা দেন না। মূলত তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাই ছয় ফুটবলার শঙ্কিত। পিটার যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন থেকেই কিছু সিনিয়র পারফরম্যান্সের বিচারে পিছিয়ে যাচ্ছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণে গুরুত্ব পাচ্ছিলেন জুনিয়ররা। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে গত অক্টোবরে নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। কোচ তার পরিকল্পনায় সফল। আমরা কেন কোচকে গুরুত্ব দেব না?'
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।
অনুশীলন বয়কট করার কারণে সিনিয়রদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাফুফে। আলাদা আলাদা বৈঠকে সমস্যা শোনার চেষ্টা করেছে বাফুফে। আর তাতে ঘুরে ফিরে পরিষ্কার হয়ে যায় বিচার বিশ্লেষণে ফুটে উঠছে কোচ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরনের কাছে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। কাজ শেষ করে ফেডারেশন থেকে বেরিয়ে যান।
অন্য আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, ছয় ফুটবলার বিষয়ে বাফুফের শীর্ষমহলে এরই মধ্যে সবই জানানো হয়েছে, ফুটবলাররা কী চাইছেন, আর বাফুফে কী চায়। সহ-সভাপতি সূত্রের খবর হচ্ছে, বাফুফের কাঠগড়ায় রয়েছেন কোচের দেওয়া ছয় ফুটবলার। তারা মনে করছেন, পুরো দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এলে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সাধারণ ফুটবল দর্শকের মুখে একটা কথা প্রায় শোনা যায়-ছেলেদের চেয়ে নারীরাই দেশের ফুটবলে ভালো করছে। ছেলেদের ফুটবলের সঙ্গে নারীদের ফুটবলের তুলনা কোনো ভাবেই হয় না। দেশের মানুষ ফুটবল পাগল, তাদের আবেগে জড়িয়ে আছে ফুটবল। রাগ করে কিংবা অভিমানে হলেও নারী ফুটবলকে এগিয়ে রাখেন। এগিয়ে রাখাটাই নষ্ট করার জন্য পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন কেউ কেউ। নারী ফুটবলের এগিয়ে চলাটাকে থামিয়ে দিতে চাইছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ মোহাম্মদ আফছার খান সাদেক
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিলাদ মোঃ জয়নুল ইসলাম
প্রকাশনালয়ঃ রিপোর্টার লজ, কসবা, বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ উত্তর বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদ মার্কেট (২য় তলা), বিয়ানীবাজার, সিলেট ।
মোবাঃ ০১৮১৯-৬৫৬০৭৭, ০১৭৩৮-১১ ৬৫ ১২
ইমেইলঃ agamiprojonma@gmail.com, milad.jaynul@gmail.com