স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ রেলওয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বশেষ স্টেশন সুনামগঞ্জের ছাতক। সিলেট-ছাতক রেললাইনটি স্থাপন হয়েছিল ১৯৫৪ সালে। তখন সিলেট বিভাগের মধ্যে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিতি ছিল ছাতকের। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পণ্য পরিবহনের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল রেললাইনটি। করোনা মহামারির সময় বন্ধ হওয়া রেললাইনটি পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ২০২২ সালের বন্যায়।
ফলে গত চার বছর ধরে এই লাইনে বন্ধ রয়েছে রেল চলাচল। তবে আশার কথা হচ্ছে সিলেট-ছাতক রেলের হুইসেল ফের বাজতে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ক্ষতিগ্রস্থ লাইন সংস্কার করে পুণরায় এই রুটে রেল চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
Manual5 Ad Code
রেলওয়ে সূত্র জানায়, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চে সিলেট-ছাতক রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সারা দেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও ছাতক রুটের ট্রেনের হুইসেল বাজেনি। এর মধ্যে ২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় ৩৪ কিলোমিটার রেললাইনের ১২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যার পর রেললাইন মেরামত নিয়ে শুরু হয় গড়িমসি।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেললাইনটি মেরামতের জন্য একনেকে প্রস্তাবনা পাস হলেও কাজ শুরু হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিলেট-ছাতক রেললাইন সংস্কার করে ফের ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ৩ জানুয়ারি রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশন পরির্দশন করেন।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট-ছাতক রুটে ট্রেনে শুধু যাত্রী চলাচল করতেন না। স্থানীয় কৃষি ও শিল্পে এই রেললাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। ছাতক থেকে ট্রেনে করে একসময় বালু, পাথর, চুনাপাথর, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হতো। দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার কারখানাটিও ছিল ছাতকে।
Manual1 Ad Code
এছাড়া ছাতক ও দোয়ারাবাজারসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে উৎপাদিত শাকসবজি, কমলালেবু, লিচু ও তেজপাতাসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য ট্রেনে করে ব্যবসায়ীরা সিলেট নিয়ে আসতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বাড়তি ভাড়ায় এসব পণ্য গাড়িতে করে
সিলেটে নিয়ে আসতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৫৪ সালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। ওই সময়ে জেলার রেলপথের সর্বশেষ স্টেশন হিসেবে ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হয়। এর আগে এটি আখাউড়া-কুলাউড়া-সিলেট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।
১৯৭৯ সালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের রাজস্ব আয়ে ছাতক স্টেশন শ্রেষ্ঠত্বের স্থান দখল করে নেয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কমিয়ে দেওয়া হয় এই রেলপথে ট্রেন ও বগি সংখ্যা। ছাতক থেকে ট্রেনে যাতায়াতে প্রায় ৪৫ মিনিটে পৌঁছানো যায় সিলেটে। এ রুটের ট্রেন খাজাঞ্চিগাঁও, সৎপুর ও আফজালাবাদ এই ৩টি স্টেশনে যাত্রা বিরতি করতো।
Manual2 Ad Code
ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, সিলেট-ছাতক ট্রেন লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা মারাত্মত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। যেখানে আগে মাত্র ১২টাকার টিকেট কেটে ছাতক থেকে সিলেট পর্যন্ত যাত্রীরা যাতায়াত করতে পেরেছেন সেখানে এখন ৮০-১২০ টাকা পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া গুনতে হয়। আর দুর্ঘটনাতো লেগেই আছে। ছাতকের মানুষের দাবি দ্রুত কাজ শেষ করে ফের সিলেট-ছাতক ট্রেন চলাচল শুরু।
Manual3 Ad Code
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম জানান, সিলেট-ছাতক রেললাইনটি সর্বশেষ ক্ষতিগ্রস্থ হয় ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায়। রেললাইন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ওই বছরের ৬ জুন থেকে ওই লাইন ‘ওয়াস্ট রুট’ হয়ে যায়। ফলে রেল চলাচল স্বাভাবিক করা যায়নি। রুটটি চালুর জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। লাইন মেরামত সম্পন্ন হলে পুণরায় ছাতকগামী ট্রেন চলাচল শুরু করবে।