স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সয়াবিন তেলবোঝাই ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত এক ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাশেদ।
এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম রনি হোসেন (২৫)।
সে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার সাহেবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর ওই আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, আদালতের অনুমতিতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রনি হোসেন ডাকাতির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। সে ঘটনায় জড়িত আরো কয়েকজন সহযোগীর নাম ও তথ্য দেন।
Manual6 Ad Code
তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হয়নি। ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
Manual1 Ad Code
পিবিআই আরো জানায়, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস গ্রেপ্তার হওয়া আসামির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়ে ভাড়া করা হয়েছিল। রনি হোসেন ও তার সহযোগীরা ওই মাইক্রোবাস ব্যবহার করেই ডাকাতির ঘটনা ঘটান।
Manual3 Ad Code
তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাশেদ জানায়, ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে রূপগঞ্জের সিটি মিল থেকে ৬০ ড্রাম ভোজ্যতেল বোঝাই একটি ট্রাক এলেঙ্গার উদ্দেশে রওনা হয়। ট্রাকটি ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজের কাছে পৌঁছালে একটি সাদা মাইক্রোবাস দিয়ে পথরোধ করা হয়। ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ৬–৭ জন ব্যক্তি ট্রাকচালক ও হেলপারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে চোখ বেঁধে অন্য গাড়িতে তুলে নেয়। পরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা মূল্যের ১২ হাজার ২৪০ লিটার ভোজ্যতেলসহ ট্রাকটি নিয়ে নরসিংদীর দিকে পালিয়ে যায় তারা।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় ট্রাকের মালিক পংকজ কুমার সাহা রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি পরে আদালতের নির্দেশে অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে ন্যস্ত করা হয়। অবশেষে আমরা এর রহস্য উদঘাটন করি।