নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। গত বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ছিল সবচেয়ে বেশি। যা সকল দুর্ঘটনার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে সিলেট বিভাগে ২৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সারা দেশে ৬৭২৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৪৮১২ জন। বিদায়ী জানুয়ারি মাসে দেশের গণমাধ্যমে ৫৫২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত, ১২০৪ জন আহতের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি মাসে রেলপথে ৩৭ টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত, ২৮ জন আহতের তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তথ্যমতে, নৌ পথে ০৮ টি দুর্ঘটনায় নিহত ০৭ জন, আহত ০৬ জন ও ০৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৫৯৭ টি দুর্ঘটনায় ৫৮৬ জন নিহত এবং ১২৩৮ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ২০৯ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২২৩ জন নিহত, ১৩২ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৮৬ শতাংশ, নিহতের ৪০.৮৪ শতাংশ ও আহতের ১০.৯৬ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৩২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে সিলেট বিভাগে ২৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ পথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
Manual1 Ad Code
সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১৫ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩১ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৭৯ জন শিক্ষার্থী, ০৯ জন শিক্ষক, ৬২ জন নারী, ৬৭ জন শিশু, ০৪ জন চিকিৎসক, ০৪ জন সাংবাদিক, ০১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ১১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে- ০২ জন পুলিশ সদস্য, ০২ জন সেনা সদস্য, ০১ জন নৌ বাহিনী সদস্য, ০৪ জন চিকিৎসক, ০১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১২৭ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৮ জন শিক্ষক ও ১১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
Manual6 Ad Code
এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৮২৯ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৮.৪৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪.৩৫ শতাংশ বাস, ১৩.৬৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৫.৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৯.০৪ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৫.৩০ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪২.৫৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.৮৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৪.০৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.৫২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৫৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৩৬ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।