স্টাফ রিপোর্টার:
মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তাসনিম জারা। এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা এ কথা বলেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী।
এর আগে, আজ দুপুরে তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আজ বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
Manual4 Ad Code
আজমল হোসেন বলেন, মোট ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৩০০ জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। সেটা ঠিকই ছিল। বরং কিছু বেশি ভোটারের স্বাক্ষর ছিল। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে নাম দেওয়া ১০ জনের মধ্যে আটজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। বাকি দুজন ওই আসনের ভোটার না হওয়ায় নির্বাচনবিধি অনুযায়ী, তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তার (তাসনিম জারা) আপিলের সুযোগ আছে।
এদিকে, তাসনিম জারা তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আজ বাছাইপর্ব ছিল। বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়নি। তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আপিলের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করেছেন।
Manual3 Ad Code
তাসনিম জারা বলেন, মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করার পেছনে নির্বাচন কমিশন যে কারণ দেখিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। যা দরকার ছিল, তার চেয়ে বেশি স্বাক্ষর তারা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে ১০ জনের তথ্যের সত্যতা তারা ভেরিফাই (যাচাই) করতে গিয়েছেন। ১০ জনের সত্যতা পেয়েছেন। তবে এই ১০ জনের মধ্যে ২ জনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন। এই দুজন জানতেন, তারা ঢাকা-৯-এর ভোটার। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তারা ঢাকা-৯-এর ভোটার নন।
তাসনিম জারা বলেন, একজনের বাসা খিলগাঁও। খিলগাঁওয়ে ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১ দুটি আসনই পড়ে। স্বাক্ষরকারী জানতেন, তিনি ঢাকা-৯-এর ভোটার। সে অনুযায়ী স্বাক্ষর করেছেন। আরেকজনের সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তিনি ঢাকা-৯-এর ভোটার। কয়েক বছর আগে তিনি শরীয়তপুরে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ঠিকানা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো আপডেট পাননি। এখন নির্বাচন কমিশনের অনলাইন ডেটাবেজ অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, তিনি শরীয়তপুরের ভোটার।
এ বিষয়ে তাসনিম জারা বলেন, এই দুজনের জানার কোনো উপায় ছিল না, তারা কোন আসনের ভোটার। এই তথ্য জানার কোনো উপায় নির্বাচন কমিশন রাখেনি।
Manual8 Ad Code
গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। তবে এই আলোচনা যখন প্রায় চূড়ান্ত, এমন পরিস্থিতিতে গত ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা। তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থীও ছিলেন।
এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী তাসনিম জারা। এরপর মাত্র দেড় দিনে পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তিনি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে নির্বাচনী আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা লাগে। স্বাক্ষর সংগ্রহ করে গত ২৯ ডিসেম্বর শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাসনিম জারা।