স্টাফ রিপোর্টার:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র বাকি কয়েক দিন। উত্তপ্ত ভোটের মাঠে লড়ছেন—ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ইঞ্জিনিয়ারসহ বহু পেশার মানুষ। হাসপাতালের সীমানা পেড়িয়ে এবার ভোটের মাঠে জনসেবা দিতে লড়ছেন প্রায় চার ডজন চিকিৎসক। অর্থাৎ ৪৬ চিকিত্সক ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন।
Manual5 Ad Code
সকাল থেকে রাত অবধি তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। হাসপাতাল থেকে ভোটের ময়দানে উপস্থিত হওয়া এই চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষের ইতিমধ্যে নজর কেড়েছেন। নিবার্চন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে— ফলাফলের মাধ্যমে জানা যাবে কতজন চিকিৎসক প্রতিনিধি আমাদের জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
Manual2 Ad Code
তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন, তবে কেউ লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। সবচেয়ে বেশি চিকিত্সক আছেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে। নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়বেন ২০ জন প্রার্থী। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম বড় দল—‘বিএনপি’। এই দলটি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ১৩ জন চিকিৎসক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে লড়ছেন ১০ জন চিকিৎসক। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থীদের মধ্যে আছেন দুইজন চিকিৎসক। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।
বিএনপি থেকে নির্বাচনী মাঠে আছেন ১৩ চিকিৎসক
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন (দিনাজপুর-৬), ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু (গাজীপুর-৩), ডা. আনোয়ারুল হক (নেত্রকোনা-২), ডা. মইনুল হাসান সাদিক (গাইবান্ধা-৩), ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন (ময়মনসিংহ-৭), ডা. কে এম বাবর (গোপালগঞ্জ-২), ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন (ঢাকা-১৯ সাভার), ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন (হবিগঞ্জ-২), ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম (গাইবান্ধা-১), ডা. সানসীলা জেবরীন প্রিয়াংকা (শেরপুর-১), ডা. ইকরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪), ডা. এম এ মুহিত সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) ও ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার আংশিক) ডা. আব্দুস সালাম।
Manual2 Ad Code
নির্বাচনী মাঠে জামায়াতের ২০ চিকিৎসক
জামায়াত থেকে মনোনয়ন পাওয়া চিকিৎসকরা হলেন- দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১), ডা. এস এম খালিদুজ্জামান (ঢাকা-১৭), অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর), অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল), অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর রাজশাহী সদর-২ (সদর), ডা. সুলতান আহমেদ বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী), ডা. এ কে এম ফজলুল হক চট্টগ্রাম-৯ (চান্দগাঁও, ডবলমুরিং), ডা. আবু বকর সিদ্দিক মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়), ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মোবিন চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ)।
Manual3 Ad Code
আরো আছেন- ডা. ফরিদুল আলম, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), ডা. শাহাদাত্ হোসেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক), ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা), ডা. মুহাম্মদ আবু নাছের চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, আংশিক পাঁচলাইশ), ডা. এ কে এম আবদুল হামিদ (টাঙ্গাইল-৬), ডা. এ টি এম রেজাউল করিম চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), ডা. আব্দুল বারী রাজশাহী-৪ (বাগমারা), ডা. আব্দুর রহিম সরকার গাইবান্ধা-৫ (গোবিন্দগঞ্জ), টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি ও হোমিওপ্যাথি চিকিত্সক ফখরুদ্দিন মানিক ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী)।
ভোটের মাঠে ইসলামি আন্দোলনের ১০ চিকিৎসক
ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী (দিনাজপুর-৬), ডা. আক্কাছ আলী সরকার (কুড়িগ্রাম-৩), ডা. মো. ইব্রাহীম খলীল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), ডা. মো. মনিরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান (পটুয়াখালী-৪), ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (ঝালকাঠি-২), ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী (পিরোজপুর-৩), ডা. হারুন অর রশীদ (টাঙ্গাইল-১), ডা. সৈয়দ ইউনুছ আহমাদ (জামালপুর-৫), ডা. নাছির উদ্দিন (ময়মনসিংহ-৪)। এনসিপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া দুই চিকিত্সক হলেন-দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. মো. আবদুল আহাদ এবং ময়মনসিংহ-১১ আসনে ডা. জাহিদুল ইসলাম।
এনসিপির চিকিৎসক প্রার্থী দুই জন
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-এনসিপি থেকে লড়ছেন ডা. জাহেদুল (ময়মনসিংহ-১১) এবং ডা. মাহমুদা মিতু (ঝালকাঠি-১) আসন থেকে।
স্বতন্ত্র হিসেবে একমাত্র চিকিৎসক প্রার্থী
স্বতন্ত্র হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন অতি পরিচিত মুখ এবং আলোচিত চিকিত্সক ডা. তাসনিম জারা। তিনি এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগত কারণে ডা. জারা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র হিসেবে রাজধানী ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনি মাঠে লড়ছেন তিনি। ভোটের মাঠেই তাকে ভোটারদের চিকিত্সার পরামর্শ দিতেও দেখা যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া এসব চিকিৎসক এখন হাসপাতালের বাইরে বা তাদের চেম্বরের বাইরে ভোটের মাঠে জনগণের সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনি সেই প্রচারণা। সাধারণ জনগণ ভাবছেন এমন মেধাবী চিকিত্সকরা সমাজ সেবা বা দেশ সেবার সুযোগ পেলে তা জনগণের জন্য বাড়তি সুফল বয়ে আনবে।