প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেটে ট্রিপল মা*র্ডা*র: পুলিশ খুঁজছে প্রেমের সূত্র, পরিবারের দাবি সম্পত্তির দ্বন্দ্ব

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে ট্রিপল মা*র্ডা*র: পুলিশ খুঁজছে প্রেমের সূত্র, পরিবারের দাবি সম্পত্তির দ্বন্দ্ব

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মিয়া নামের এক শ্রমজীবীকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাসার গৃহকর্মীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাবুল একাই তিন খুন করেছে। কিন্তু নিহত এমএ সাত্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর উঠে এসেছে সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এমএ সাত্তারের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানার দায়ের করা মামলায় অভিযোগে করা হয়, নগরের লামাবাজারস্থ ১২ শতক ভূমির মালিকানা নিয়ে সিরাজুল ইসলাম নামের এক আবাসন ব্যবসায়ীর সাথে তাঁর বাবার দ্বন্দ্ব ছিল। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে পেশাদার খুনিদের দিয়ে তাঁর বাবা-মা ও গৃহকর্মীকে খুন করা হয়েছে। মামলায় আটক বাবুলের ব্যাপারে কোন অভিযোগ করেননি সেলিনা।

Manual2 Ad Code

গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর নিজ বাসায় খুন হন আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক এমএ সাত্তার, স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পারিবারিক পূর্ববিরোধ কিংবা ডাকাতির ঘটনা হতে পারে। বাসার ভেতরে আলমিরা ও ওয়াড্রব খোলা এবং জায়গার দলিলের কাগজ মেঝেতে পড়েছিল। বাসা থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ারও আশঙ্কা করেন কমিশনার। সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে গণমাধ্যমের সাথে আবারও কথা বলেন তিনি।

Manual2 Ad Code

এসময় তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবুল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সে রঙ মিস্ত্রি ও কসাইয়ের কাজ করে। আটকের পর সে পুলিশকে জানিয়েছে, কাজের সুবাদে যাতায়াতের কারণে ১৫-২০ দিন ধরে গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সকালে সে তাহমিনার সাথে দেখা করতে গেলে কোন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ হয়। এসময় সাথে থাকা ছোরা দিয়ে বাবুল প্রথমে তাহমিনাকে আঘাত করে। তার চিৎকারে এগিয়ে আসলে সুরাইয়া ও এমএ সাত্তারকেও সে খুন করে পালিয়ে যায়। এসময় বাসা থেকে মূল্যবান কাগজ বা জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান কমিশনার।

Manual8 Ad Code

ঘটনার পরদিন বাবুলের তথ্যমতে এমএ সাত্তারের বাসার পাশের একটি খালি প্লট থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ। এসময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তাহমিনার সাথে বাবুলের প্রেম নয় জানাশোনা ছিল। তাহমিনার করা কটাক্ষে বাবুল ক্ষুব্ধ হয়ে একাই তিন খুন করেছে। তবে বাসা থেকে কোন কিছু খোয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এক দিনের ব্যবধানে পুলিশের দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে হেরফের নিয়ে মানুষের মধ্যে হত্যারহস্য নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক হয়। এক ব্যক্তির পক্ষে তিনজনকে খুন ও গৃহকর্মীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ড পুলিশের এমন বক্তব্য যেন মানুষের কাছে খাপছাড়া মনে হচ্ছিল।

পুলিশের এমন দাবির পর থেকে ফেসবুকে অনেকেই ঘটনা ও পুলিশের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। শুরু থেকে অনেকে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে আনলেও পুলিশ তা আমলে না নিয়ে বাবুলের দিকেই মুল ফোকাস দেয়।

এদিকে, দাফন শেষে শুক্রবার রাতে কোতোয়ালী থানায় তিন খুনের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেন নিহত দম্পতির যুক্তরাজ্য প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, নগরীর লামাবাজারে ১২ শতক ভূমির মালিক তিনি ও তাঁর বাবা। ওই জায়গা নিয়ে ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান এডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর জের ধরে সিরাজুল ইসলাম আদালত ও তাদের বাসায় গিয়ে কয়েকবার হুমকি দিয়েছেন। এসব ঘটনায় থানায় একাধিক জিডি ও আদালতে মামলা রয়েছে।

Manual5 Ad Code

সর্বশেষ গত ২৮ জুলাই আদালতে তাদের আইনজীবীকে ও ৩০ জুলাই তার বাবাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য সিরাজুল ইসলাম হুমকি দেয়। আগামী ১৯ আগস্ট ওই জায়গা সংক্রান্ত একটি মামলার ধার্য্য তারিখও রয়েছে। সেলিনার অভিযোগ, ওই সম্পত্তির কারণে তার বাবা-মা ও গৃহকর্মী খুন হয়েছেন। পেশাদার খুনিদের দিয়ে এই খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের পর খুনিরা বাসা থেকে মামলা ও ভূমিসংক্রান্ত সকল কাগজপত্র ও জিডির কপি নিয়ে গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল-তাহমিনার প্রেমের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ জোর দিলেও মামলা দায়েরের পর পুলিশ আগের অবস্থান থেকে কিছুটা হলে সরে এসেছে।

শনিবার এসএমপির গণমাধ্যম কর্মকর্তা, অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, একটি ঘটনার নেপথ্যে অনেক কিছু থাকতে পারে। আমাদের সামনে যা যা আসবে সব নিয়ে তদন্ত করব। যত ধরণের ক্লু বা তথ্য পাওয়া যাব সবগুলো যাচাই করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে বাবুল একা ঘটনাটি ঘটিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ করা হয়েছে। কোন তথ্যই তদন্তের বাহিরে থাকবে না।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code