মক্কা চুক্তিতে যোগদানের প্রস্তাব এলে সরকার ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মক্কা চুক্তিতে যোগদানের প্রস্তাব এলে সরকার ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা ঠিক হবে কি-না এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা দেখা যাচ্ছে।
Manual7 Ad Code
তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব আসেনি বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা জানতে চান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গত ৭ অগাস্ট সই হওয়া মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হলে কী সুবিধা হবে বা বাংলাদেশ এই চুক্তি থেকে কি পেতে যাচ্ছে?
জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, “এই প্যাক্ট তিনটি দেশের ভেতরে হয়েছে। আমরা এই প্যাক্টটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এতে যোগদান বা যোগদান করার বিষয়টি এখনো আসেনি। কারণ এটা নির্ভর করছে, যারা এই প্যাক্টের সদস্য তাদের অভিপ্রায়ের ওপর।”
তিনি বলেন, “তারা যদি অভিপ্রায় প্রকাশ করেন, বাংলাদেশকে এই প্যাক্টে নেবার জন্যে। তাহলে পরে আমরা নিশ্চয়ই সেটা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।”
চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে এখনই আলোচনার সময় আসেনি বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “তার আগের ভালোমন্দ, এটা এই বিষয়টি আলোচনা করাটা সম্ভবত একটি, সেই সময়টি এখনো আসেনি। আমরা নিশ্চয়ই এ সমস্ত বিষয় বিবেচনায় রাখবো।”
Manual3 Ad Code
চুক্তিটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে সেটিকে ‘বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা’ হিসেবে দেখার কথাও বলেন খলিলুর রহমান।
তার ভাষ্য, “আমাদের মনে রাখতে হবে একটা কথা যে এই প্যাক্ট, এটা যদি বিস্তৃত হয় এবং এটা হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা এবং এটা আমাদের পরিবারের, মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং এইটা নিয়ে কারো, অন্যান্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নাই।”
Manual5 Ad Code
এর আগে ২৪ অগাস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বকে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে, ওই জোটের সঙ্গে থাকার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে, তাদের সঙ্গে থাকার জন্য।
এর তিন দিন পর সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি এখনও আসেনি এবং সেটি নির্ভর করবে তিন সদস্য দেশের অভিপ্রায়ের ওপর।
কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ অগাস্ট মক্কায় এ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।
Manual6 Ad Code
চুক্তির একটি মূল বিষয় হল, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও সম্মিলিত প্রতিরক্ষার আওতায় আসার কথা রয়েছে।
চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে করা হয়নি বলে জানিয়েছিল তুরস্ক।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছিলেন, চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে সাধারণ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
পাকিস্তানও চুক্তিটিকে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি ও কৌশলগত সহযোগিতায় আগ্রহী অন্য দেশের জন্যও এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।