শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মুনিয়ারপাড় গ্রামে ২০১৩ সালে চাঞ্চল্যকর মো. আজিজুল মিয়া হত্যা মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিজ্ঞ বিচারক ফাহমিদা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন।
Manual8 Ad Code
নিহত মো. আজিজুল মিয়া (৪৫) দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন এবং এলাকায় তিনি একজন পঞ্চায়েত শালিস বিচারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৩ সালে একটি গ্রাম্য শালিস বিচারকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষ অসন্তুষ্ট হয়ে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
Manual6 Ad Code
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে রাজনগর থানায় একটি হত্যা মামলা (জিআর ৯৫/২০১৩, দায়রা মামলা নং ৪১/২০১৪; ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি) দায়ের করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
Manual7 Ad Code
এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে একই গ্রামের রুবেল মিয়া ও রুমান মিয়া (দুই ভাই) এই দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসির আদেশ) এবং এই অপরাধে সহায়তাকারী অপর ২ জন আসামি একই গ্রামের জয়নাল আবেদীন ও রিপন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই মামলায় অপর ৪জন আসামী একই গ্রামের স্বপন মিয়া, জহির মিয়া, কমরু মিয়া ও ফয়ছল মিয়াকে ঘটনার সাথে জড়িত না থাকায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেন বিজ্ঞ বিচারক। দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা রায় ঘোষনার সময় দন্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামীসহ (রুবেল মিয়া ও স্বপন মিয়া ছাড়া) অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রুবেল মিয়া ও স্বপন মিয়া ছাড়া অন্যান্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
Manual5 Ad Code
অন্যদিকে, বাদীপক্ষ এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “প্রকৃত আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদীপক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।”
তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে উচ্চ আদালতেও এই সাজা বহাল থাকবে বলে জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।