পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই দেশে মেজরিটি-মাইনরিটি মানি না। মানবতাকে আমরা টুকরা টুকরা দেখতে চাই না। আমরা গডফাদার, গডমাদার আর ফ্যাসিবাদী মাফিয়াদের বাংলাদেশও দেখতে চাই না। আমরা চাই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। তিনি বলেন, নিজেদের আর সংখ্যালঘু বলবেন না। এ দেশে যে জন্ম নিয়েছে, সে-ই এই দেশের গর্বিত নাগরিক। পতিত স্বৈরাচার অতীতে এ জাতিকে ভেঙে টুকরা টুকরা করে মুখোমুখি লাগিয়ে রেখেছিল। যে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে না, সে দেশের মানুষ মাথা সোজা করে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়াতে পারে না। বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর গেল। আর কত বছর আমাদের এভাবে টুকরা টুকরা করে রাখা হবে। আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা, আমরা কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানি না। আমরা আমাদের প্রতিবেশীকে কষ্ট দিতে চাই না। তবে আমাদের প্রতিবেশীও যেন আমাদের ওপর এমন কোনো কিছু চাপিয়ে না দেন যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সম্মানজনক নয়, অপমানজনক। যদি এরকম কিছু তারা করেন, তাহলে দেশের স্বার্থে ভূমিকা পালন করতে আমরা কারও চোখের দিকে তাকাব না।
Manual6 Ad Code
তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা ফ্যাসিবাদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আমরা স্মরণ করছি। যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জেগে উঠতে হবে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।
পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মীর মুরশেদ তুহিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন।
Manual6 Ad Code
এদিকে ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিনে পঞ্চগড়ের করোতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে নৌকাডুবিতে নিহত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভূপেন্দ্রনাথ ও রুপালী রানীর শিশুসন্তান দিপুর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।