নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট বিভাগে হাম আক্রান্তদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। প্রতিদিনই বাড়ছে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা। এরই মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪১৫ জন। ফলে অনেক হাসপাতালেই শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে।
Manual8 Ad Code
সিলেটে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
২ সেপ্টেম্বরের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন ৪১৫ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১২১ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ১২১ জনের মধ্যে ৬২ জন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ৪১ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ৩ জন রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১৪ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এবং ১ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে—১৭৩ জন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৩০ জন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিলেটের বাইরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৪১৫ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে রুবেলার দুই রোগীও রয়েছে।
Manual4 Ad Code
তবে হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ভর্তি থাকা ৪১৫ জনের সংখ্যা পরিস্থিতির তীব্রতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে সিলেটের প্রধান দুটি সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ৩০৩ জন সন্দেহজনক রোগী ভর্তি আছেন।
Manual7 Ad Code
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে অবশ্য গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৪৪ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে সন্দেহজনক হাম রোগে ৫৭ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ৪ জনসহ মোট ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে মোট ২১ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ২ সেপ্টেম্বর নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি বলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। একদিকে নতুন রোগী ভর্তি অব্যাহত, অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান রোগীর চাপ—দুইয়ে মিলে সিলেটে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে এক দিনে ১২১ জন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসাসেবা সক্ষমতার ওপর এই চাপ আরও বাড়লে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Manual6 Ad Code
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা কমার কোনো ধারাবাহিকতা তৈরি হয়নি; বরং বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফলে হাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।