স্টাফ রিপোর্টার:
৫ আগস্ট হাসিনা দেশ ত্যাগের পর বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি ও প্রশাসনিক স্থাপনা, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, নেতা-কর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর ঘটে। ৫টি এসপি অফিসে হামলা হয়। এরমধ্যে রয়েছে সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ।
Manual1 Ad Code
ভাঙচুর হওয়া অফিসগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সিলেট পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়। ঘটে লুট ও অগ্নিসংযোগ। পুড়ে ছাই হয়ে যায় ভবনের পুরো চার তলার সব কক্ষের কাগজ-ফাইল ও জিনিসপত্র। পুড়ানো হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি, মোটরসাইকেল। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় পুরো কার্যালয়। কোনো আসবাব-পত্র অক্ষত ছিলনা।
Manual7 Ad Code
এ ঘটনার চার মাস পর সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ধ্বংসস্তুূপ থেকে বের হতে পারেনি এসপি অফিস। কার্যালয়ের আঙিনায় এখনো গাড়ি পোড়ার ভস্ম দৃশ্যমান। জানালার কাঁচগুলো এখনো ভাঙা। অনেক কক্ষে আসবাবপত্র এলোপাতাড়ি পড়ে আছে। ১ম ও ২য় তলার সংস্কার কাজ প্রায় শেষ হলেও ৩য় তলায় এখনো চলছে। বিভিন্ন কক্ষে নতুন করে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ চলমান থাকায় কাগজপত্র রাখা হয়েছে টেবিলের উপর। তাছাড়া নিজ নিজ কক্ষে ফিরতে পারেননি কর্মকর্তারা। অন্যত্র বসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
Manual4 Ad Code
জানা গেছে, ঘটনার দিন ৫ আগস্ট এসপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভবনের ভেতর ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ও লুট করা হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ইলেকট্রিক সরঞ্জাম ও অফিসের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন থানায় একই ধরনের ধ্বংসযোগ্য চলে, যা পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। এ ঘটনার পর থেকে এসপি অফিসের কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাজ স্থবির হয়ে যায়।
জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার এএসপি মো. সম্রাট তালুকদার বলেন, “আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। খুব শিগগিরই সেবার মান স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।” কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের সংস্কার কাজ এখনো চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমারসহ অনেক কর্মকর্তার কক্ষের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
এদিকে, ঘটনার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এসপি কার্যালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেটবাসী। তারা দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে পুরোদমে সেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।
সিলেটের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সেবা পুনরায় স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।