প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

প্রেমের টানে চীনা যুবক টাঙ্গাইলে, স্কুলছাত্রীর সঙ্গে হলো বিয়ে

editor
প্রকাশিত মার্চ ৫, ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ণ
প্রেমের টানে চীনা যুবক টাঙ্গাইলে, স্কুলছাত্রীর সঙ্গে হলো বিয়ে

Manual3 Ad Code

 

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

Manual5 Ad Code

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এসেছেন এক যুবক। এরপর মায়া আক্তার নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন তিনি। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।

 

এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলায় পাচটিকরি গ্রামে ছুটে আসেন চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছে মায়ার বাড়িতে।

জানা যায়,উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল মালেকের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মায়ার সঙ্গে এক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘উইচ্যাট’-এর মাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের গানসু প্রদেশের সানজিয়া টাউনশিপ গ্রামের জংজিয়া মামুসার। গড়ে উঠে বন্ধুত্ব। কিছুদিন না যেতেই সে সম্পর্ক রূপ নেয় প্রেমে। এরমধ্যে মায়ার বিয়ের কথাবার্তা চলতে থাকে। বিষয়টি জানানো হয় মামুসাকে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার টানে চলে আসে পাঁচটিকরি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। বিদেশি নাগরিককে দেখতে আশপাশের মানুষজন মায়াদের বাড়িতে ভিড় করেন। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কাজী ডেকে মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

Manual5 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

এদিকে বিয়ের পর থেকে মামুসা স্ত্রী মায়াকে নিয়ে হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্রামের মেঠোপথ ও রাস্তাঘাট দিয়ে। খাচ্ছেন মাছ, মাংস, সবজিসহ সবধরনের দেশীয় খাবার। স্বামীর সাথে চীনে যেতে ইচ্ছুক স্ত্রী মায়াও। পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষ করে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে মায়াকে নিয়ে চলে গেছেন ওই যুবক।

মায়া বলেন, উইচ্যাটের মাধ্যমে তার সাথে আমার পরিচয়। তার সাথে কথা হয়, পরে আমাকে সে বলে আমি তোমাকে পছন্দ করি, তোমাকে বিয়ে করতে চাই। পরে আমি তাকে বলছি, আমাকে বিয়ে করতে হলে তো বাংলাদেশে আসতে হবে। বলছে, বাংলাদেশে আসব। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। তারপরও তার সাথে আমি কথা বলছি।

 

মায়া আরও বলেন, আমি কয়েকদিন কথা বলা বাদ দিছিলাম। পরে অনলাইনে ঢুকে দেখি এসএমএস করছে। বলতেছে তুমি এতো দিন কোথায় ছিলে। পরে আমি বলছি, আমি তোমার সাথে কথা বলতে পারব না, বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেছে। পরে রাগারাগি করছে, আমাকে বিয়ে করতে চাও, না পরিবার যাকে পছন্দ করবে তাকে বিয়ে করতে চাও? আমি বলছি, এখন যে আছে, তাকেই বিয়ে করতে চাই। পরে অনলাইনে টিকেট কাটছে, বিশ্বাস করি নাই। পরে বাংলাদেশে এসে বিমানবন্দরে এক ভাইরে দিয়ে কথা বলছে, তখন বিশ্বাস করছি। তখন অনেক ভয় পেয়ে গেছিলাম, আব্বুরে জানাতে পারি নাই, মাকে বলছি। মা আব্বুরে বলে দিছে, পরে রাগারাগি করছে। সে বাড়িতে আসলে আমাদের বিয়ে হয়। আমি তার সাথে চলে যাব।

মায়ার বাবা আব্দুল মালেক বলেন, ‘মোবাইলের মাধ্যমে সম্পর্ক হয়েছে। বিমানবন্দরে ১২-১৩ দিন হয় আসছিল। আমি রাগ করছি–আমার একটি মেয়েই, আমি দেবো না। পরে আমার মেয়ে বলছে, তুমি যদি নাও দাও আমি চলে যাব। যদি দাও তাহলে তোমাদের জন্য ভালো হবে। আমি কয়েক দিন রাখিও নাই, জায়গাও দেই নাই। মেয়ের কথায় আর থাকতে পারলাম না। পরে আমি নিয়ে আসি। এখানে নিয়ে আসার পর কাজী নিয়ে এসে বিয়ে পড়াইছি। লোকজন সাথে নিয়ে বিয়ে দিছি। সে যদি নিয়ে যেতে চাই, আমি দিয়ে দেবো। বিয়ে দিয়েছি, রাখার জন্য না। আমি মনে করছি, আমার একটি মেয়ে ছিল, এখন নাই। যদি নিয়ে যায় ২-৫ বছর পরেও আসতে পারে আবার আমার মেয়ে ফিরে নাও আসতে পারে। এটা আমি ভাগ্যের ওপরে ছেড়ে দিছি। মেয়েকে বুঝাইছি, মেয়ে তারে ছাড়া কিছু বুঝে না।’

Manual2 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code