নিউজ ডেস্ক:
এ বছর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত সেপ্টেম্বরে ইসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েওছিল সে তথ্য। কিন্তু এরপর সরকার বেঁকে বসে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সরকার কিছু জানে না বলে জানালেও পিছু হটে ইসি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসি নির্বাচন আয়োজনে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও হার মানে সরকারের কাছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী রমজানের আগে অন্তত তিন ধাপের নির্বাচন করতে চায় ইসি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুই ধাপের এবং ফেব্রুয়ারিতে এক ধাপের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ইসির। এই তিন ধাপে ২ হাজারের বেশি ইউপির নির্বাচন করা হতে পারে। ইউপির পাশাপাশি জানুয়ারিতে এক ধাপের পৌরসভা নির্বাচন করার কথাও ভাবছে ইসি।
ইসির একাধিক সূত্র বলছে, প্রাথমিকভাবে আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা থেকে সরে গিয়ে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপের নির্বাচন করার কথা ভাবা হচ্ছে। এরপর চতুর্থ সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপের এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তথা পবিত্র রমজানের আগে তৃতীয় ধাপের ভোট করতে চায় ইসি। প্রতি ধাপে ৭০০-৮০০ ইউপির নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউপি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, রমজানের আগেই তিন ধাপের নির্বাচন করার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যায়। এসব ধাপে আনুমানিক ২ হাজার ইউপিতে নির্বাচন হবে, সংখ্যাটি ২০০-এর কমবেশি হতে পারে। প্রথম ধাপের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন সময়সূচি তিন-চার দিন পেছানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে মূল সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তিন ধাপের নির্বাচন হবে।
Manual6 Ad Code
গত সেপ্টেম্বরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন হবে। প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, যোগাযোগ ছাড়াই নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে ইসি। এই অবস্থায় পিছু হটে ইসি। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনের জন্য আগে উপযুক্ত সময় বের করতে হবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় সময়ের সুযোগ কম। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা; এরপরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এসএসসি পরীক্ষা শেষে ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগপর্যন্তও কিছুটা সময় রয়েছে। তাই পাওয়া সময়ের মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে হবে।
ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির আলোচনা হচ্ছে। আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকের পরও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত চিঠি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত তাঁরা পাননি। সরকার তাদের দিক থেকে বিষয়টি নিয়ে বলছে, কমিশনও তার অবস্থান জানাচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এভাবেই চলছে।
গাইবান্ধায় ১ অক্টোবর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে।
Manual1 Ad Code
দেশের ৪ হাজার ৫৮০ ইউপির মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে ৩ হাজার ৬৩টির এবং আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে আরও ১ হাজার ৪৮ ইউপির। স্থানীয় সরকার (ইউপি) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। কোনো কারণে পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হলে, তার পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। ওই সময়ে প্রশাসক নিয়োগ করবে সরকার। তবে দৈব-দুর্বিপাকের কারণে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট ইউপিগুলোর ভোট এ বছরের মধ্যে করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজনৈতিক কারণে সরকার এ বছর ইউপি নির্বাচন করতে চাচ্ছে না বলে সূত্র জানায়।
Manual8 Ad Code
ইউপি নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সবকিছু কমিশন সভায় আলোচনা হয়, সিদ্ধান্ত হলে আপনারা জানবেন।’
Manual1 Ad Code
সাধারণত নির্বাচনের ৪৫-৫০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের প্রচারের জন্য প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় পান। সূত্র বলেছে, এবার ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ৩৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে চায় ইসি। প্রচারের জন্য প্রার্থীদের ১৫ দিন সময় দেওয়া হতে পারে।