এনসিপির নেতার কথোপকথন ফাঁস: ‘তোমরা দেখো ওর থেকে আরও পাঁচ লাখ নিতে পারো কি না’
এনসিপির নেতার কথোপকথন ফাঁস: ‘তোমরা দেখো ওর থেকে আরও পাঁচ লাখ নিতে পারো কি না’
editor
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৫, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক আন্দোলন দমাতে ৫ লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে আন্দোলন বন্ধের শর্তে টাকা চাইতে শোনা যায়।
এর আগে গত ৫ জুলাই চাঁদাবাজির অভিযোগে এক নারী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে লিখিত অভিযোগ দেন।
Manual7 Ad Code
সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ২ কোটি টাকা না দেয়ায় তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন নিজাম উদ্দিন। সে সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সদস্যসচিব ছিলেন তিনি। অভিযোগের পর তাকে পদ থেকে স্থগিত করা হলেও পরে আবার ফিরিয়ে দেয়া হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দেড় মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, আফতাব হোসেন রিফাত নামের একজন মেসেঞ্জারে নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলছেন।
কথোপকথনে আফতাব জানতে চান, ‘যদি মীর ভাইয়েরা আন্দোলন বন্ধ না করে তখন কী করবো?’
Manual6 Ad Code
জবাবে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আন্দোলন বন্ধ করাবো। তোমারে দিছে, টাকা দিছে?’ আফতাব ‘হ্যাঁ’ বললে নিজাম উদ্দিন জিজ্ঞেস করেন কত টাকা দেয়া হয়েছে। উত্তরে আফতাব বলেন, ‘পাঁচ’।
তখন নিজাম উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আরও বেশি নিতা প্রেশার দিয়ে তোমরা দেখো ওর থেকে আরও পাঁচ লাখ নিতে পারো কিনা।’
ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব রাহাদুল ইসলাম। তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘সাইফপাওয়ার টেকবিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নিজাম উদ্দিন ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, এটি শুধু দুর্নীতিই নয়, ছাত্র ও জনতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’
রাহাদুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি তিনি অন্য একজনের কাছ থেকে পেয়েছেন। তার দাবি, এর আগেও নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এগুলো পুরোনো ভিডিও, আমাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে। যে ভিডিও করেছে, সে লাইভে এসে বিস্তারিত বলবে।’
Manual6 Ad Code
এনসিপির চট্টগ্রাম নগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক বলেন, ‘আগে অভিযোগ ওঠার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাছে তার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাদের ইতিবাচক জবাবের ভিত্তিতেই তাকে কমিটিতে রাখা হয়। এখন নতুন করে অভিযোগ উঠায় আমরা নিয়ম অনুযায়ী তার কাছে ব্যাখ্যা চাইব।’
গত ২৩ এপ্রিল ‘বন্দর রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন নগরের কাস্টমস মোড়ে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইস্যুতে মিছিল ও সমাবেশ করেছিল।