ঘনিষ্ঠ ভিডিও ফাঁসের জেরে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ
ঘনিষ্ঠ ভিডিও ফাঁসের জেরে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ
editor
প্রকাশিত জুলাই ২২, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে জেলার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে তার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টায় শ্যামনগর বাজার থেকে শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মিছিলটি শ্যামনগর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশে মিলিত হয়।
Manual1 Ad Code
বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
Manual6 Ad Code
এর মধ্যে ছিল, ‘ছি ছি নজরুল, লজ্জায় বাঁচি না’, ‘হই হই রই রই, বট বাহিনী গেলি কই’, ‘শ্যামনগরে হবে না, বট বাহিনীর ঠিকানা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান।
Manual7 Ad Code
সমাবেশে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু আজ তারা প্রতারিত বোধ করছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই। শ্যামনগরে আমরা গাজী নজরুলকেঅবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ লম্পট এই গাজী নজরুলকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে বহিষ্কার করবেন।
Manual7 Ad Code
নাগরিক নেতা অধ্যাপক আবু সাইদ বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করেছিল, সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেছে। শ্যামনগরের মানুষের সম্মান কোনো ব্যক্তি বা দলের চেয়ে বড়। তাই সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন- স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনপ্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন- সোলাইমান কবির, আশেক ইলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকাত আলী, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা, অধ্যাপক আবু সাঈদ ও শফিকুল ইসলাম দুলু।
প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অংশ। এ বিষয়ে তিনি লিখিত বক্তব্যও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।