জকিগঞ্জ প্রতিনিধি :
ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রতারণা, হ্যাকিং, ভুয়া আইডির ছড়াছড়ি আর পেইজ দখলের মতো ঘটনায় অনেকেই পড়েন মারাত্মক সমস্যায়। সেই সময় একমাত্র প্রশ্ন থাকে ‘কেউ কি সাহায্য করতে পারবে?’ এমন মুহূর্তে ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন জকিগঞ্জের তরুণ রেজাউল হোসাইন রনি।
Manual2 Ad Code
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের এই তরুণ মূলত একজন শিক্ষার্থী। কিন্তু তার কাজ তাকে এনে দিয়েছে এক ব্যতিক্রমী পরিচিতি—তিনি এখন ফেসবুক নিরাপত্তা ও হ্যাকিং প্রতিরোধে একজন দক্ষ সাইবার সহায়ক। নিজের আগ্রহ থেকেই যাত্রা শুরু করেছিলেন। ধাপে ধাপে অভিজ্ঞতা আর শেখার মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন একজন সাইবার এক্টিভিস্ট।
Manual1 Ad Code
সম্প্রতি আলোচনায় আসেন রনি, যখন তিনি ‘জকিগঞ্জ আই টিভি’ নামে পূর্ব সিলেটের সবচেয়ে বড় একটি ফেসবুক পেইজ (ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৮.৫ লাখ) হ্যাক হওয়ার পর সেটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তার দ্রুত, দক্ষ এবং নিঃস্বার্থ সহায়তায় আবার পেইজ ফিরে পান সংশ্লিষ্টরা। সেখান থেকেই শুরু তার স্বীকৃতির পথ।
Manual7 Ad Code
রনির সবচেয়ে বড় পরিচিত তিনি কারও কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক চান না। কারও বিপদে বিনা স্বার্থে এগিয়ে আসাই যেন তার দায়িত্ব। ফেসবুক আইডি বা পেইজ রিকভার, রিপোর্ট-জনিত বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্ট উদ্ধার, ফেক আইডি শনাক্ত, অনলাইন প্রতারণা রোধ এবং সচেতনতা তৈরিতেও তিনি সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
Manual3 Ad Code
জকিগঞ্জ আই টিভি পেজের প্রধান অ্যাডমিন আল হাছিব তাপাদার বলেন, “পেইজ হ্যাক হওয়ার পর আমরা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। রনি যেভাবে নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটা সত্যিই অনুকরণীয়। যদি সে সরকারিভাবে সহায়তা পায়, আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবে।”
জানতে চাইলে রেজাউল হোসাইন রনি (Rezaul Hussein Rony) বলেন, “প্রতিদিনই কারও না কারও আইডি বা পেইজ হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আসে। সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করি পাশে দাঁড়াতে। অনেকেই নিজের ভুলে প্রতারণার শিকার হন, বিশেষ করে নারী ব্যবহারকারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। আমি চাই সবাই সাইবার জগতে আরও সচেতন হোক।”
তিনি আরও জানান, “আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন আছে। তবে তার আগে চাই দেশের মানুষের ভেতরে ডিজিটাল সচেতনতা তৈরি হোক।”
স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই মনে করেন, রনির মতো তরুণরা দেশের সম্পদ। ঠিকমতো প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে তারা জাতীয় পর্যায়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁদের কথায়—“রনি হয়তো একা দেশের সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, কিন্তু তার মতো প্রতিভাবান তরুণদের পাশে দাঁড়ালে দেশের সাইবার নিরাপত্তা অনেক শক্তিশালী হবে।”