বিএনপি এতো খারাপ হলে তাদের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেনি কেন: তারেক রহমান
বিএনপি এতো খারাপ হলে তাদের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেনি কেন: তারেক রহমান
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন— একটি রাজনৈতিক দল, যারা এখন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের দাবি, বিএনপি নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন হলো, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারে ওই দলটিরও তো দুইজন সদস্য (মন্ত্রী) ছিলেন। বিএনপি যদি এতোই খারাপ হতো, তবে তারা কেন তখন পদত্যাগ করে চলে আসেননি?
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা ৪টা ৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান।
Manual4 Ad Code
বক্তব্যের মাঝপথে তারেক রহমান ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ৪টা ২৬ মিনিটে উপস্থিত জনতাকে সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন এবং ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। এরপর তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
তারেক রহমান বলেন, তারা পদত্যাগ করে আসেনি কারণ তারা জানতো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছিলেন। তৎকালীন সরকারের সেই দুই মন্ত্রী জানতেন, বেগম জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। আন্তর্জাতিক সব পরিসংখ্যান বলে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী সরকারের সময় দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন দায়িত্ব নেন, তখন থেকে দেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, যে দল আজ বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করছে, সরকারের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাদের দুই মন্ত্রীর বহাল থাকা প্রমাণ করে তারা নিজেরাই এখন মিথ্যা কথা বলছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট দিয়ে শুধু চলে আসলেই হবে না; ভোটের ফলাফল কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে, যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।
Manual8 Ad Code
আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের পর আপনাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে খাল খনন কর্মসূচিতে। সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন, সেদিন আমিও থাকব।
এর আগে স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ এবং ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানানো হয়। তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার পর তার কাছে ময়মনসিংহের তারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানান স্থানীয় নেতারা।
Manual6 Ad Code
তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, লৎফুরজ্জামান বাবর।
বক্তব্যে প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তারা স্লোগান দেন— ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’।
লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং আগামী দিনে তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশই ছিলেন মধ্যবয়সী। তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই মাঠেই তারা এর আগে সদ্যপ্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন।