নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সাড়ে ছয় লাখের বেশি বাংলাদেশির বড় অংশই সিলেটি। সাম্প্রতিক আদমশুমারি ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশিই সিলেটি। সেই হিসাবে বর্তমানে ব্রিটেনে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ সিলেটি বংশোদ্ভূত মানুষ বাস করছেন।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশি জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪৫ হাজার। স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী যুক্ত করলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। অভিবাসন গবেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিশাল অংশের পূর্বপুরুষ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক দশক আগে অভিবাসন করেন।
Manual8 Ad Code
গবেষণা বলছে, উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ জাহাজে কর্মরত সিলেটি নাবিকদের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে সিলেটিদের যাত্রা শুরু হয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় অভিবাসনের ধারা দ্রুত বাড়ে। পরবর্তী সময়ে পরিবার পুনর্মিলন কর্মসূচির আওতায় স্ত্রী-সন্তানদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার ফলে স্থায়ী সিলেটি কমিউনিটি গড়ে ওঠে। যা বর্তমানে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সমাজের সবচেয়ে বড় অংশ।
Manual4 Ad Code
যুক্তরাজ্যে সিলেটিদের সবচেয়ে বড় আবাসস্থল পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, ব্রিক লেন, হোয়াইটচ্যাপেল, বেথনাল গ্রিনসহ আশপাশের এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া নিউহ্যাম, রেডব্রিজ, লুটন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, ওল্ডহাম, লিডস, গ্লাসগো ও অন্যান্য শহরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিলেটি পরিবার বসবাস করছে।
Manual1 Ad Code
শুধু জনসংখ্যার দিক থেকেই নয়, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও সিলেটিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যের ‘কারি শিল্প’ গড়ে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন সিলেটি উদ্যোক্তারা। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অধিকাংশ বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ পরিচালনা করছেন সিলেটি ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি খুচরা ব্যাবসা, পরিবহন, নির্মাণ, সম্পত্তি খাত, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা কার্যক্রমেও তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
Manual2 Ad Code
রাজনীতিতেও সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় কাউন্সিল, মেয়র পদ, স্কুল গভর্নিংবডি এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন। একই সঙ্গে আইন, চিকিৎসা, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, ব্যাংকিং এবং সরকারি প্রশাসনেও নতুন প্রজন্মের সিলেটিরা অবস্থান সুদৃঢ় করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতি এখনও যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। শতাধিক মসজিদ, বাংলা স্কুল, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং আঞ্চলিক সমিতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস এবং অন্যান্য জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে সিলেটি সম্প্রদায়ের ব্যাপক অংশগ্রহণ ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি পরিচিতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় শ্রমনির্ভর অভিবাসী হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, ব্যাবসা, রাজনীতি, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছেন।