সিলেটের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ে যা হল
সিলেটের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ে যা হল
editor
প্রকাশিত আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
নিউজ ডেস্ক :
সিলেট নগরীর দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের আহ্বানে গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সিলেট নগরীর সার্বিক উন্নয়ন, বিশেষ করে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিশুদ্ধ পানির সংকট দূরীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
Manual1 Ad Code
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং নগরবাসী এর সুফল পায়।
মন্ত্রী বলেন, “জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট—এসব সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”
Manual6 Ad Code
মন্ত্রী বলেন, “নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়নকাজের গতি আরও বাড়াতে হবে। যেসব প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিলেট’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। তিনি বলেন, সম্প্রসারিত এলাকাসহ পুরো সিলেট নগরীকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব নগরীতে পরিণত করতে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে সিলেট নগরীতে জলাবদ্ধতা হয়নি। কারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। একই সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশ উন্নয়নেও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, “মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগরীর উন্নয়ন হবে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার আলোকে। এতে সড়ক, ড্রেনেজ, জলাশয় সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু বর্তমান সমস্যার সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্যেই সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।”
Manual3 Ad Code
সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান জগলুল, মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান রিষি, সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, নগর পরিকল্পনাবিদ তানভীর আহমদ মোল্লাসহ সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।