শ্রীমঙ্গল ডেক্স:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে প্রায় ১৬ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
Manual4 Ad Code
তিনি বলেন, শুক্রবার রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার ইছবপুর এলাকায় মিতালি ডেকোরেটার্সের মালিক প্রয়াত হারুন মিয়ার বাসা থেকে আমরা অজগর সাপটি উদ্ধার করি। তিনি জানান, রাতে বাড়ির সবাই যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখন পরিবারের কেউ একজন হঠাৎ শুনতে পান ঘাটের নিচ থেকে ‘হিস হিস’ শব্দ ভেসে আসছে। পরে মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালালে দেখা যায় বিশাল এক অজগর সাপ। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘাটের নিচে অজগর সাপ রয়েছে বিষয়টি স্থানীয় চিকিৎসক প্রলাদ বাবুকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যদের খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের নিচ থেকে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ২৬ কেজি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
Manual3 Ad Code
জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফশিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
Manual4 Ad Code
ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।