নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০২ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে একজন হবিগঞ্জের এবং অন্যজন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা।
Manual8 Ad Code
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩২ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৮ জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি হয়েছেন।
Manual6 Ad Code
এ নিয়ে বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন ৩৩৫ জন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৪ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১১৪ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৮ জন এবং সিলেটের অন্যান্য হাসপাতাল ও বিভাগের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে আরও রোগী ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৫৭ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
Manual4 Ad Code
মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে সিলেট বিভাগে মোট ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৫৭ জন, হবিগঞ্জে ২০ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জন মারা গেছেন। শুধু নিশ্চিত হামেই এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
একদিকে প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, অন্যদিকে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে সিলেট বিভাগের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। বিশেষ করে গত ২৪ ঘণ্টায় একসঙ্গে দুইজনের মৃত্যুর খবর পরিস্থিতির ভয়াবহতার নতুন করে জানান দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে নতুন কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত না হলেও হাসপাতালে সন্দেহভাজন রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।