নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে কিছুদূর গিয়ে খুনি তার পরণের রেইনকোট ফেলে দেয়। আরও কিছুদূর যাওয়ার পর পায়ের স্যান্ডেল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রামদা ছুঁড়ে ফেলে। এই ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া রেইনকোট ও স্যান্ডেলই চিনিয়ে দেয় খুনিকে। পরে কৌশলে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করা হয় খুনিকে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে গ্রেফতার হওয়া জালাল উদ্দিন জানিয়েছে, ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনের সাথে তার প্রেমিকা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে এমন সন্দেহ থেকে সে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
Manual1 Ad Code
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ড নিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার শামীম মুর্শেদ। নিহত ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকায় তিনি ব্যবসা করতেন। তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে সাইফ এন্ড খুশি রেস্টুরেন্টে বাবুর্চির কাজ করতো অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন। তার বাড়ি সুনামগঞ্জে।
Manual6 Ad Code
জালালের জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসএমপি কমিশনার জানান, জালাল যে রেস্টুরেন্টে কাজ করতো সেই সেখানে রেহানা পারভিন নামে আরেক কর্মচারী ছিলেন। প্রায় ৭ বছর আগে রেহানার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে জালালের সাথে রেহানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাঝে মধ্যে তাদের শারীরিক সম্পর্কও হতো। রেহানাকে বিয়ে করার কথা ছিল জালালের। রেহানা মাঝে মধ্যে রেস্টুরেন্টের পার্শ্ববর্তী শাহাব উদ্দিনের দোকানে যেত। এসময় শাহাব উদ্দিনের সাথে কথা বলতো। বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি জালাল। গেল ৩/৪ মাস ধরে রেহানার সাথে তার মনমালিন্য হচ্ছিল। রেহানা বিয়েতে অসম্মতি জানাচ্ছিল। এতে শাহাব উদ্দিন ও রেহানার সম্পর্ক নিয়ে জালালের সন্দেহ আরও গাঢ় হয়। এনিয়ে শাহাব উদ্দিনের সাথে তার কয়েকবার কথাকাটাকাটি হয়। শাহাব উদ্দিন তাকে গালমন্দ করেন। এতে জালাল ক্ষুব্ধ হয়ে শাহাব উদ্দিনকে দেখে নেওয়ার পরিকল্পনা আঁটে।
এসএমপি কমিশনার সারোয়ার শামীম আরও জানান, ২৩ আগস্ট রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার সময় শাহাব উদ্দিনের পিছু নেয় জালাল। বাসার কাছে নির্জন স্থানে আসার পর জালাল প্রায় ২৪ ইঞ্চি লম্বা দা বের করে প্রথমে শাহাব উদ্দিনের কানের উপরে মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি পড়ে গেলে তার গলায় আরেকটি কোপ দেয়। শাহাব উদ্দিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে দিয়ে কিছু দূর গিয়ে সে প্রথমে তার পরণের রেইনকোট ফেলে দেয়। আরও কিছুদূর যাওয়ার পর পায়ের স্যান্ডেল ও দা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, রেইনকোট ও স্যান্ডেল দেখে খুনি হিসেবে জালাল উদ্দিনকে সনাক্ত করা হয়।
কমিশনার জানান, স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় কৌশলে জালালকে আটক করা হয়। পরে আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।