প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ: মক্কা চুক্তি ও ঢাকার কূটনৈতিক তৎপরতা

editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ: মক্কা চুক্তি ও ঢাকার কূটনৈতিক তৎপরতা

Manual6 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে প্রধানমন্ত্রীকে যে সময় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, ঠিক তখনই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা চলছে।
অবশ্য বাংলাদেশ এ নতুন জোটে যোগদান করবে কি-না এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

Manual7 Ad Code

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে সৌদি যুবরাজকেও একটি চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ চিঠি হস্তান্তর করেন তিনি।

আগামীতে উভয়পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের নতুন মাত্রা।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজকীয় সফরের আমন্ত্রণও দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

 

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল দর্শন হলো-কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সম্মিলিত নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা। ন্যাটোর সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা ধারণার সঙ্গে এর কিছুটা মিল থাকায় চুক্তিটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমন্ত্রণ এলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দেশের স্বার্থ ও সম্ভাব্য সুবিধা বিবেচনার ওপর।

 

Manual6 Ad Code

সৌদিতে কূটনৈতিক বার্তা

মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগও বাড়ছে। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সৌদি নেতৃত্বকেও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, শ্রমবাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ

মক্কা চুক্তিতে সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে নতুন সুযোগ, মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার। তবে এর পাশাপাশি রয়েছে কিছু কৌশলগত চ্যালেঞ্জও।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এ ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। কোনো সামরিক জোটে সম্পৃক্ততা সেই ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন হিসেব তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মতো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির পরীক্ষা

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে চলা।

বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মতে, যে কোনো আন্তর্জাতিক কাঠামোয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত স্বাধীনতাই হবে প্রধান বিবেচ্য।

মক্কা চুক্তি, সৌদি সফরের আমন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার এ নতুন অধ্যায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী মাসগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সৌদি সফর এবং মক্কা চুক্তি নিয়ে ঢাকার সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ।

Manual1 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code