নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের কবলে ছিল সিলেট বিভাগের খাদ্যগুদামগুলো। কৃষকদের সামনে রেখে ধান-চাল সরবরাহ করতেন সরকার দলীয় কতিপয় নেতা। খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা, মিলার, ডিলার ও রাজনৈতিক নেতারা মিলে গড়ে তুলেছিলেন সিন্ডিকেট। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে সিলেটে সেই সিন্ডিকেটপ্রথার বিলুপ্তি ঘটেছে। সিন্ডিকেট ছাড়াই ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
সিলেট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্র জানায়, এবছর ব্যুরো মৌসুমে ১৫টি এলএসডির মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণের তালিকাভূক্ত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৯ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া নিবন্ধিত ৮১ জন মিলারের কাছ থেকে আতপ ও সিদ্ধ মিলিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৪৯৭ মেট্রিক টন চাল।
Manual3 Ad Code
সিলেট সদর এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুস সামাদ জানান, কৃষি অফিস কৃষকদের তালিকা করে দেয়। একজন কৃষক ৩ মণ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ মণ ধান সরবরাহ করতে পারে। সদর এলএসডি’র ব্যুরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন। আর চালের মধ্যে সিদ্ধ ৮ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন ও আতপ ৫ হাজার ৯৪৮ মেট্রিক টন। কৃষক ও নিবন্ধিত মিলারদের কাছ থেকে এলএসডি সরাসরি সেই ধান ও চাল সংগ্রহ করেছে। কোন মধ্যস্বত্তভোগীকে হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
Manual4 Ad Code
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জ্যেতি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন- ‘কোন ধরনের সিন্ডিকেট ছাড়াই পুরো জেলায় ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এবার জেলায় ৮ হাজার ৯০ টন ধান এবং ১০ হাজার ২৬৬ টন আতপ চাল ও ১০ হাজার ৪২ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।’
মৌলভীবাজার : জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে মৌলভীবাজার বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। জেলার ৭টি উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে লটারির মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। লটারির মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করায় কেউ সিন্ডিকেট করার কোন সুযোগ পায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন।