স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হঠাৎ এমপি, প্রধান ফটকে তালা—বেড়া টপকে প্রবেশ
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হঠাৎ এমপি, প্রধান ফটকে তালা—বেড়া টপকে প্রবেশ
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে রোগীরা যেখানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অপেক্ষায় থাকেন, সেখানে গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান ফটকেই ঝুলছিল তালা। বুধবার আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে ভেতরে ঢুকতে পারেননি গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি।
Manual4 Ad Code
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
পরিদর্শনে গিয়ে সংসদ সদস্য প্রথমেই দেখতে পান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। ফটক খোলার জন্য অপেক্ষা করেও দায়িত্বশীল কাউকে না পাওয়ায় তিনি এক পাশ দিয়ে দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
Manual2 Ad Code
ভেতরে ঢোকার পরও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবার চিত্র। সংসদ সদস্যের দাবি, সেখানে কোনো চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসার ছিলেন না। কয়েকজন কর্মচারীকে বসে গল্প-আড্ডা করতে দেখা যায়।
অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গেটের তালায় মরিচা ধরে গেছে। দেখে মনে হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তালাটি ঝুলছে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও কেউ না আসায় বাধ্য হয়ে দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি।’
তিনি বলেন, গাজীপুর ইউনিয়নটি প্রত্যন্ত এলাকা। এখানকার মানুষের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা বা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া স্থানীয় মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য। তাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
ঘটনার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটকের চাবি কেন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে ছিল না—এ প্রশ্নে ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইনস্পেক্টর হাসান আল মামুন বলেন, ‘ভুলবশত চাবিটি বাড়িতে রেখে এসেছিলাম।’
Manual4 Ad Code
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে কোনো জনবল কর্মরত নেই। কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। এমপি হঠাৎ পরিদর্শনে যাওয়ায় ওই সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
Manual5 Ad Code
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হন। আকস্মিক পরিদর্শনের এই ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম ও জনবল সংকট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।