‘ইউনূসকে হেনস্তা করিনি, প্রশ্ন করেছি- সে অধিকার আমার আছে’
‘ইউনূসকে হেনস্তা করিনি, প্রশ্ন করেছি- সে অধিকার আমার আছে’
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠেছে।
হেনস্তাকারীরা প্রবাসী আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করে সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিউইয়র্ক শাখার এক নেতা বলেছেন, তাকে হেনস্তা করিনি, প্রশ্ন করেছি, সে অধিকার আমার আছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ।
Manual6 Ad Code
ভিডিওচিত্র দেখে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি নিউ ইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে এমদাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে সেখানে গিয়েছিলাম। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেখে আমি প্রথমে প্রশ্ন করি, আপনি কি ড. ইউনূস? এরপর বলেছি, আপনি ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশকে ধ্বংস করেছেন।’
Manual3 Ad Code
এমদাদ চৌধুরী দাবি করেন, ড. ইউনূসের দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশে তিন হাজার পুলিশ সদস্য এবং হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর নিজের বাড়িসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
Manual8 Ad Code
এমদাদ আরো বলেন, ‘আমি তাঁকে প্রশ্ন করেছি, এসব ঘটনার দায় কে নেবে? কিন্তু তিনি আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করার অধিকার আমার আছে। আমি শুধু সেই প্রশ্নই করেছি।’
Manual2 Ad Code
হেনস্তা ও আক্রমণের অভিযোগ অস্বীকার করে এমদাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় ভদ্রভাবে প্রশ্ন করেছি। তাঁকে গালিগালাজ করিনি, গায়ে হাত তুলিনি, পানি ছিটাইনি কিংবা ডিমও মারিনি। আমি শুধু প্রশ্ন করেছি। প্রশ্ন করার অধিকার আমার রয়েছে।’
ড. ইউনূসকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে সম্বোধন করার বিষয়টিও স্বীকার করেন এমদাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে সন্ত্রাসী বলেছি। আমার মতে, তিনি একজন সন্ত্রাসী। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ঘটনাগুলোর জন্য তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে।’
জানা যায়, নিউইয়র্ক সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনালে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন প্রবাসী নেতা-কর্মী তাঁকে লক্ষ্য করে উচ্চস্বরে বিভিন্ন মন্তব্য ও স্লোগান দিতে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’, ‘গো ব্যাক’ এবং ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করা হচ্ছে। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন।