সিলেট-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে ২২ কোটির কাজে ধীরগতি: দুর্ভোগে ৫০ লাখ মানুষ!
সিলেট-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে ২২ কোটির কাজে ধীরগতি: দুর্ভোগে ৫০ লাখ মানুষ!
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেট–গোবিন্দগঞ্জ–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়নকাজে চরম দীর্ঘসূত্রতা ও ধীরগতির কারণে দূর্ভোগে জীবন পার করছেন এ অঞ্চলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ। প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ চলমান থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের আওতায় বলাউরা থেকে চানপুর পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালু এবং সামান্য বৃষ্টিতে কাদা ও পিচ্ছিল রাস্তায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কোনো দিন যাত্রীদের চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত সড়কে আটকা পড়ে থাকতে হয়।
Manual3 Ad Code
তবে কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সালেহ অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর গাফিলতি ও তাদের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের অন্ত নেই।
এদিকে জনগণের তীব্র ভোগান্তির মুখে নড়েচড়ে বসেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সড়কের খুঁড়ে রাখা অংশের কাজ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কড়া তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাজের গতি বাড়াতে শ্রমিক সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অতীতের রেকর্ড ও বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পুরোনো সংস্কার প্রকল্পেও দুর্নীতির অভিযোগ:
শুধু বর্তমান প্রকল্পই নয়, একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৩ থেকে ৪৬ কিলোমিটার অংশের মেরামত ও শক্তিশালীকরণ কাজ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার এই কাজে ব্যাপক নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
Manual8 Ad Code
কাগজপত্রে মাটির কাজ, বেস টাইপ-১, প্রাইম কোট ও ওয়্যারিং কোর্সের কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের তকিপুর এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের জাউয়াবাজার, লক্ষ্মণসোম, খারাই ও জানধরটুপিসহ বিভিন্ন স্পটে কাজের মান ও পরিমাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া নির্মাণসামগ্রী ও ল্যাব টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট তৈরির অভিযোগও রয়েছে।
Manual7 Ad Code
এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমানকে বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান ও সাবেক দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের অনেকে ফোন রিসিভ করেননি, আবার কেউ কেউ দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন।
জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে এই সড়কের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করা এবং পুরোনো সংস্কার প্রকল্পের অনিয়মগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।