গোয়াইনঘাটে কাপনা নদীতে সেতুর দাবি, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
গোয়াইনঘাটে কাপনা নদীতে সেতুর দাবি, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নে দাতারী-বলেশ্বর গ্রামের মধ্যখানে কাপনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অসুস্থ রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। এ দুর্ভোগ নিরসনে কাপনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা যায়, ডৌবাড়ী ইউনিয়নের হাকুর বাজার-মানিকগঞ্জ পাকা সড়ক থেকে পশ্চিম দিকে ডৌবাড়ী ঘোড়াইল কলেজ ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যাতায়াতের সংযোগ সড়কের দাতারী, খলারছটি ও বাবনছটি জামে মসজিদের ঘাট এলাকায় কাপনা নদী অবস্থিত। নদীর দুই পাড়ে দাতারী, বলেশ্বর, শ্রীনাথপুর, বাবনছটি, খলারছটিসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বসবাস করেন। স্থায়ী সেতু না থাকায় এসব গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিন যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এই সংযোগ সড়কের সঙ্গে রয়েছে বলেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলেশ্বর জামে মসজিদ, কান্দিগ্রাম-নগরডেংরি সড়ক, ঐতিহ্যবাহী মিছবাহুল উলূম ঘোড়াইল মাদ্রাসা ও ডৌবাড়ী ঘোড়াইল কলেজ। এ ছাড়া সেতুটি নির্মিত হলে ডৌবাড়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, মনসুর মহসিন ডৌবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ডৌবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যাতায়াতও সহজ হবে। বর্তমানে নদী পারাপারের অসুবিধার কারণে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র ও সরকারি কার্যালয়ে যাতায়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
Manual7 Ad Code
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন, রকিব, নিজাম ও নজরুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে ডৌবাড়ী ঘোড়াইল কলেজ, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অল্প সময়ে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমজীবী ও দিনমজুরদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন বাজার-সদাইয়ের কাজও সহজ হবে।
বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারে খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় এলাকাবাসীকে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, অসুস্থ রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
Manual4 Ad Code
মনসুর মহসিন ডৌবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও দাতারী গ্রামের বাসিন্দা মো. মোতাহির আলম বলেন, ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষে আমাদের এলাকায় কোনো বিদ্যালয় না থাকায় অনেক কষ্ট করে খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে ডৌবাড়ী মনসুর মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতাম। কিন্তু আজও এই ঘাটে সেতু নির্মাণ হয়নি। অথচ জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে হাকুর বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য হলেও এখানে সেতু নির্মাণ জরুরি।
বলেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসরিন নাহার বলেন, “আমিসহ আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। সরকার এখানে একটি সেতু নির্মাণ করে দিলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে।”
স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, দাতারী মসজিদের ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম সরেজমিনে স্থানটি পরিদর্শন করেছিলেন। তবে এখনো সেতু নির্মাণের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি জানান।
মোহাম্মদ আলী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
Manual4 Ad Code
এলাকাবাসীর দাবি, কাপনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধান হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘব ও এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।