স্টাফ রিপোর্টার:
নিকটাত্মীয় এক রোগীকে দেখতে সিলেট মহানগরের পাঠানটুলা রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিএনজি অটোরিকশা যোগে যাচ্ছিলেন মা-মেয়ে। তারা নগরীর ব্যস্ততম এলাকা আম্বরখানা থেকে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। সিএনজি চলাকালে পথিমধ্যে আরও দুজন যাত্রী উঠেন। কিন্তু হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন মা-মেয়ে।জ্ঞান ফিরলে দেখেন স্বর্ণ ও সাথে থাকা টাকা কিছুই নেই। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অটোরিকশাটি আটক করেন। পরে স্থানীয় জনতা যাত্রী বেশে উঠা একজন ও সিএনজি অটোরিকশা চালকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এসময় কৌশলে পালিয়ে যায় একজন।
শুধু এই মা-মেয়েই নয়, দিনে-দুপরে সিলেট মহানগরে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইকারীরা আরও যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সর্বস্ব কেড়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে ছিনতাইকারীরা। সর্বশেষ গত সোমবার (২০ জানুয়ারি) পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় জব্দ করা হয়েছে দুটি সিএনজি অটোরিকশা।
ভুক্তভোগী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহানগরের টিলাগড়, শিবগঞ্জ, বন্দরবাজার, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, টুকেরবাজার, আম্বরখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। মূলত দুপুর ও সন্ধ্যা নামার পর ছিনতাই আতঙ্ক বাড়ছে বেপরোয়া ছিনতাই চক্রের অপ-তৎপরতায়। ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা নিয়ে।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। বেশীরভাগ সময়ে তারা যাত্রীবেশে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে তারা। স্বর্ণ, টাকা, মোবাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ দাবি জিনিষ তাদের প্রধান লক্ষ। আমরা ছিনতাই রোধে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে।
সূত্র জানিয়েছে, সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে ভয়ঙ্কর ফাঁদ পাতে ছিনতাইকারী চক্র। যাত্রীবেশে তারা অটোরিকশায় আগে থেকেই ওৎ পেতে বসে থাকে। সাধারণ যাত্রী তার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় উঠলেই সুবিধা মতো জায়গায় নিয়ে ওই যাত্রীর সর্বস্ব কেড়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ভয়ঙ্কর এ চক্র কতিপয় অটোরিকশা চালকের সঙ্গে আঁতাত করে এমন অপকর্ম ঘটাচ্ছে নগরী ও শহরতলিতে।
এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাতে মহানগরীর দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪ ছিনতাইকারীকেস গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাতে মিরাবাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে একটি চক্র। এসময় তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাহপরান থানার বালুরচ এলাকার কাদির মিয়ার ছেলে বিল্লাল আহমদ এবং জালালাবাদ থানার টুকেরবাজার ভাইয়ারপাড় গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে আক্তার আহমদ। এসময় তাদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
Manual6 Ad Code
একই রাতে পাঠানটুলা এলাকায় ছিনতাই করতে সময় আরো ২ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হচ্ছে, মোগলাবাজার থানার পশ্চিমপাড়ার হাসামপুর গ্রামের মো. ছিদ্দিক আলীর ছেলৈ মো. হামিদুর রহমান এবং নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড এলাকার মৃত আজমল হোসেনের ছেলে আজহার। ছিনতাইকাজে তাদের ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ। তাদেরকে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এরআগে ১২ ডিসেম্বর ছিনতাই অভিযোগে মহানগরের কিং ব্রিজ এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছে থেকে ছিনতাইকৃত টাকা ও মালামাল উদ্ধার করা হয়।
Manual2 Ad Code
এদিকে গত নভেম্বর মাসে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধকান্ড নিয়ন্ত্রণে ‘হোন্ডা টহল ডিউটি’ নামে বিশেষ একটি টিম গঠন করে সিলেট মহানগর পুলিশ। রাতে ও দিনে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকা টহল দেন এই টিমের সদস্যরা।
Manual5 Ad Code
অপরদিকে সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলছেন, মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা তৈরী হয়েছে চালকরা এসবের সাথে জড়িত। কিন্তু তা সত্য নয়। অনেক সময় যাত্রীবেশে এই কাজ তারা করছে। আবার কেউ কেউ মালিকদের বেশী ভাড়া দিবেন বলে গাড়ি নিয়ে ভাসমানভাবে যাত্রী তুলে এসব অপর্কম করে যাচ্ছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করেছি।
চালকদের গাড়ি দেওয়ার আগে তাদের এনআইডিসহ সব যাচাই-বাছাই করে দিতে সকল মালিকদের আহবান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।