১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
editor
প্রকাশিত আগস্ট ৯, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবস্থাও করা হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
Manual5 Ad Code
তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না। এখন সেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরইমধ্যে সেই কাজে হাত দিয়েছি।
Manual3 Ad Code
তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।
জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে গুটিকয়েক মানুষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। কারও কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা ও জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি ও নিরাপত্তার সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা চান, তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে যেতে পারবে এবং কাঁচামালও সঠিকভাবে আসতে পারবে। শিল্পকারখানা সঠিকভাবে চালাতে হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, আনোয়ারায় চীনকে আমরা একটি বিরাট জায়গা দিয়েছি। এই যে চীন থেকে আমি ঘুরে এলাম, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে এবং এই মিল-কারখানাগুলোতে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। তার ফলে আমাদের যেমন একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে, একইসঙ্গে আমরা ইনশাআল্লাহ বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার মাধ্যমে আমরা এই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করব।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি আমরা কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করেছি। এই যে বাঁশখালির কিছু অংশে লবণ চাষি ভাইয়েরা আছেন। শুধু যারা ধান, পাট বা অন্যান্য শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষবাস করে, তারাই যে শুধু কৃষক কার্ড পাবে তা নয়। লবণ চাষি ভাই যারা আছেন, ইনশাআল্লাহ তারাও কৃষক কার্ড হাতে পাবেন।
Manual4 Ad Code
তিনি আরও বলেন, একটি কথা এসেছে যে লবণের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার। আলোচনা করে আমরা ইনশাআল্লাহ লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে মূল্য পেলে লবণ চাষী ভাইদের স্বাবলম্বিতা আসবে, অর্থনৈতিকভাবে তারা সচ্ছল হবে। আস্তে আস্তে, ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব। যার ফলে লবণ চাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।
সমাবেশে উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী এলাকায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।