স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট মহানগর ও আশপাশের এলাকাগুলোয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। নানা ধরনের অপরাধের ঘটনা ও এর প্রতিকার চেয়ে করা মামলার সংখ্যা বাড়ছে। এসব এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানো ও অপরাধ দমনকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে পুলিশ।
Manual1 Ad Code
গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যাপক জনরোষের শিকার হয় পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুলিশের ৪৬০টি থানা ও স্থাপনা। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় থানাগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করে তোলার কাজ শুরু হয়। কাজে ফিরে আসে পুলিশও। তবে ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসেনি। বরং সারাদেশের মতো সিলেটেও খুন, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ঘটনা বেড়ে গেছে। যদিও এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে এখনো কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি পুলিশ।
Manual3 Ad Code
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে সারা দেশে মোট মামলা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৭২টি। এর মধ্যে সিলেট রেঞ্জে ৭১১টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। আর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে (এসএমপি) ১৪৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জনসংখ্যা, সংশ্লিষ্ট এলাকার আয়তন এবং অপরাধের ধরনকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। অন্যথায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় এক ধরনের নিরাপত্তা সংকট। এ সুযোগে দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন বাড়িতে হামলা এবং ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। হচ্ছে লুটপাটও। অনেক ক্ষেত্রেই উচ্ছৃঙ্খল জনতার মব সংস্কৃতির সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। সারা দেশে এ ধরনের অপরাধ তৎপরতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে দিনেদুপুরে ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও খুনের মতো অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে বেশি। এমনকি এসব অপরাধ দমন করতে গিয়ে উল্টো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আক্রান্ত হতে হচ্ছে।