নিজস্ব প্রতিবেদক :
তাঁরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক। কোথাও ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ পেলে ঠিকাদারের মাধ্যমে দলবেঁধে কাজে যান। যাতায়াতের মাধ্যম তাদের পিকআপ। রবিবার সকালে সিলেট শহর থেকে কাজের জন্য সুনামগঞ্জে যাচ্ছিলেন একদল নির্মাণ শ্রমিক। কিন্তু পথিমধ্যে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন পিকআপে থাকা ৮ শ্রমিক। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭ জন। কাজের জন্য বের হয়ে লাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে তাদেরকে।
Manual3 Ad Code
এর আগে ২০২৩ সালের ৭ জুন একইভাবে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দক্ষিণ সুরমার কুতুবপুরে দুর্ঘটনায় ১৪ নির্মাণ শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন।
Manual1 Ad Code
জানা গেছে, সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে পিকআপে করে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক (ঢালাই শ্রমিক)। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেলিবাজার যাওয়ার পর বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ৪ জন ও ওসমানী হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৪ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহত নুরুজ আলীর ভাই সুয়েব আলী বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে আমার ভাই ৩/৪ দিন কাজে যেতে পারেনি। আজ রোদ উঠায় কাজে বেরিয়েছিল। এক ঠিকাদারের মাধ্যমে আরও কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিকের সাথে পিকআপ ভ্যানে তারা সুনামগঞ্জে কাজের জন্য যাচ্ছিল। পিকআপে সিমেন্ট মিকশ্চার মেশিনও ছিল। ট্রাকের সাথে সংঘর্ষের সময় মিকশ্চার মেশিনের সাথে ধাক্কা লেগে সবাই গাড়ি থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে কেউ মারা যান, কেউ আহত হন।’
Manual4 Ad Code
দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপপরিচলাক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ট্রাকের চালক কাঁঠাল নিয়ে সারারাত গাড়ি চালিয়ে এসেছেন। ভোরের দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে শুনেছি। তবে তদন্ত করার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতদের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মনির বলেন, ‘আহতদের কয়েকজনের অবস্থাও সকটাপন্ন। একজন আইসিইউতে আছেন। বাকীদের হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের প্রয়োজন মতো বিভিন্ন বিভাগে প্রেরণ করা হবে।’