‘আত্মহত্যা’ সাজিয়ে ধামাচাপার অভিযোগে আদালতে হত্যা মামলা
‘আত্মহত্যা’ সাজিয়ে ধামাচাপার অভিযোগে আদালতে হত্যা মামলা
editor
প্রকাশিত মে ২০, ২০২৬, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
নিউজ ডেস্ক:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মা তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দাবি জানিয়ে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
Manual4 Ad Code
তার দাবি, ছেলে শ্যামল মিয়াকে (২২) আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রেখেছিল। সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও নিহতের মা সরুফা আক্তার।
মামলায় নিহতের স্ত্রী সুমা আক্তারসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- নোয়াগাঁও গ্রামের ইমরান মিয়া, সারোয়ার হোসেন, আকিক মিয়া, শামীম মিয়া, আঙ্গুরা বেগম এবং ইসলামপুর গ্রামের সুজন মিয়া।
Manual8 Ad Code
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জীবিকার তাগিদে সরুফা আক্তার ঢাকার গাজীপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার ছেলে শ্যামল মিয়া গ্রামের বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তদের সঙ্গে শ্যামলের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এই বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে মায়ের অভিযোগ।
Manual6 Ad Code
গত ২ এপ্রিল সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর পান সরুফা আক্তার। ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে তিনি জানতে পারেন, তাহিরপুর থানা পুলিশ শ্যামলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
Manual7 Ad Code
পরবর্তীতে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার দিন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে শ্যামলকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
নিহতের স্ত্রী সুমা আক্তারের আচরণ নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাদী সরুফা আক্তার। তিনি জানান, ঘটনার আগের দিন সুমা আক্তার বাবার বাড়ি বা অন্যত্র বেড়াতে গিয়ে রাতযাপন করেন। পরদিন সকালে এসে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সময় স্ত্রীর অনুপস্থিতি এবং তার অসংলগ্ন আচরণে পরিবারের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।
বাদীর আরও অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে মামলা না করার জন্য আসামিরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে। এমনকি গত ১৪ এপ্রিল স্থানীয় একটি মহলের চাপে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) আবেদন করতেও তাকে বাধ্য করা হয়েছিল বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের মা সরুফা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে ওরা পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে। জমি কেড়ে নেওয়ার জন্য আমার বুক খালি করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, শ্যামল নামের এক যুবকের ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় তার মায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই থানায় আগে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এখন যদি ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করে থাকেন, তবে আদালতের নির্দেশনা বা কপি পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।