নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটে বন্ধুর বউয়ের সাথে পরকীয়া করায় নির্মমভাবে খুন হয়েছেন বন্ধু। জুয়েল ও মো. হাবিল বন্ধু ছিলেন। বন্ধুত্ব থাকায় অবাধে জুয়েলে আসা-যাওয়া ছিল হাবিলের বাসায়। এভাবে কয়েকদিন চললে হঠাৎ সন্দেহ হয় হাবিলের। তিনিও বিষয়টি খুজে বের করেন। হাবিলের স্ত্রী ও জুয়েলের জন্য তাদের এই বন্ধুত্ব শত্রুতায় রূপ নিল। আর এই শত্রুতা থেকে প্রাণ গেল জুয়েলের।
Manual6 Ad Code
রবিবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরীর রায়নগর এলাকায় এই হত্যাকান্ড ঘটান বলে জানান মো. হাবিল।
নিহত জুয়েল (২৬) ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার ভেরা ১০নং সিধলা ইউপি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি বর্তমানে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন রায়নগর দপ্তরিপাড়ার সাকেরের কলোনীর বাসিন্দা।
Manual5 Ad Code
জানাগেছে, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয়রা মো. হাবিলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করলে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিল সিলেটভিউয়ের কাছে একটি সাক্ষাৎকারে জানান, তার স্ত্রীর সঙ্গে জুয়েলের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি দুজনকেই একাধিকবার বুঝিয়েছেন বলেও জানান। কিন্তু কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই বিচার করার সিদ্ধান্ত নেন বলে সিলেটভিউয়ের কাছে স্বীকার করেন তিনি। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের পরও তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই বলে দাবি করেছেন হাবিল।
এদিকে পুলিশ জানায়, রবিবার (৩১ মে) সকাল ১১টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাদের দুই জনের মধ্যে এর মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারির একপর্যায়ে মো. হাবিল ভিকটিম জুয়েলকে টেনে পার্শ্ববর্তী গোয়ালীছড়া খালে ফেলে দেয় এবং তার সাথে থাকা ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দ্বারা ভিকটিমের গলা, পিঠ ও বুকে একাধিক আঘাত করে। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন জুয়েলকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এবং পুলিশকে খবর দেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে স্থানীয়রা মো. হাবিলকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সৌপর্দ করেন।
Manual8 Ad Code
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধৃত মো. হাবিলকে জনতার কাছ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’