প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ঝুঁকিতে জ্বালানি নিরাপত্তা

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ঝুঁকিতে জ্বালানি নিরাপত্তা

Manual1 Ad Code

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

দেশের জ্বালানি খাতে সংকট ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা ও শিল্প-কারখানার প্রয়োজন মেটানোর চাপ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস ও মজুত ফুরিয়ে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। এই দুই বাস্তবতার মাঝে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্যাস খাতে তীব্র সংকট: মজুত নেমেছে ৬ টিসিএফে

দেশে উৎপাদনে থাকা গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা বর্তমানে ২০টি। পেট্রোবাংলার সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্যাসের মজুত ছিল ৬ হাজার ৩২১ বিলিয়ন কিউবিক ফুট (বিসিএফ) বা ৬ টিসিএফের (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) কিছু বেশি। তবে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এ মজুত নেমে এসেছে ৬ টিসিএফে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে উত্তোলন হয় ৫৮ বিসিএফ।

এদিকে পেট্রোবাংলা বলছে, দেশে মজুত থাকা গ্যাসের মোট পরিমাণ ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ। উৎপাদনে থাকা ও উৎপাদনে নেই–এমন সব গ্যাসক্ষেত্রের হিসাব মিলিয়ে এ মজুত ধরা হয়েছে। দেশে উৎপাদনে নেই এবং পরিত্যক্ত এমন গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ১০টি। এসব ক্ষেত্রে মোট ১ হাজার ৩৩৪ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। উত্তোলন ও মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে এসব গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন জাতীয় গ্রিডে আনা যায়নি।

দেশের পাঁচটি পরিত্যক্ত ফিল্ডে মজুত রয়েছে অন্তত ৬৬১ বিসিএফ গ্যাস। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ছাতক গ্যাসফিল্ডে ৪৪৭ বিসিএফ, সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রে ৮৯ বিসিএফ, ফেনী গ্যাসক্ষেত্রে ৬২ বিসিএফ এবং কামতা গ্যাসক্ষেত্রে ৪৪ বিসিএফ গ্যাস মজুত আছে। সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র অনেক আগে থেকেই বন্ধ হয়ে আছে। তবে সেখানে মজুত গ্যাসের তথ্য জানা যায়নি। এসব ক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত ভোলা নর্থ গ্যাসফিল্ডে ৪৩৫ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। তবে সেটি কাজে লাগানো হয়নি। ২০২১ সালে আবিষ্কৃত ৫২ বিসিএফ মজুত থাকা সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাসফিল্ড পাইপলাইন নির্মাণ সংকটের কারণে গ্রিডে যুক্ত করা যায়নি। এ ছাড়া ২০২৩ সালে আবিষ্কৃত ভোলার ইলিশা গ্যাসফিল্ডও উৎপাদনে আনা যায়নি।

তবে আশার কথা শুনিয়ে জ্বালানি বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পরিত্যক্ত গ্যাসক্ষেত্রের মজুত নিয়ে অনেকে কাজ করতে চাইছে এবং বিদেশি কোম্পানিগুলো আগ্রহ দেখিয়েছে। বর্তমানে তাদের সঙ্গে কোন প্রক্রিয়ায় এসব ক্ষেত্র নিয়ে বড় উদ্যোগ নেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করছে জ্বালানি বিভাগ। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, যেসব কূপে মজুত রয়েছে অথচ উৎপাদনে নেই, সেগুলো নিয়ে তারা কাজ করছে।

 

বিবিয়ানার চিত্র ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

Manual6 Ad Code

দেশে গ্যাসের বর্তমান মজুতের একটি বড় অংশ রয়েছে চারটি বড় গ্যাসক্ষেত্রে, বাকিগুলোর মজুত যৎসামান্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উৎপাদনে থাকা ক্ষেত্রটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র। হাইড্রোকার্বন ইউনিটের তথ্যমতে, এ ক্ষেত্রে ২পি রিজার্ভ (গ্যাস মজুতের প্রাথমিক সমীক্ষা) ছিল ৫ হাজার ৭৫৫ বিসিএফ, যদিও পেট্রোবাংলা বিবিয়ানায় ২পি রিজার্ভ দেখিয়েছিল ৭ হাজার ৬৬৬ বিসিএফ। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শেভরন তাদের বিবিয়ানা ফিল্ডে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপগুলোতে কাজ করায় রিজার্ভ বাড়ছে, যার প্রতিফলন সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য-উপাত্তেও দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যে গ্যাস মজুত আছে তা দিয়ে চলবে মাত্র আট বছর। প্রতিবছর গ্যাসের চাহিদা ও জোগানের যে বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, তাতে স্থানীয় গ্যাসের মজুত বড় আকারে বাড়ানো না গেলে বিদ্যুৎ খাত থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানায় নতুন বিনিয়োগ বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, স্থানীয় গ্যাস খাতের আজকের এ দুর্দশা একদিনের নয়, বরং দশক ধরে তৈরি হয়েছে। এর পেছনে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার পাশাপাশি আমদানি নীতিসহ অনেক ভুল সিদ্ধান্তও দায়ী।

 

ভুল নীতির খেসারত

বাংলাদেশের তেল, গ্যাস ও কয়লা নিয়ে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে ১৯৮০-৮১ সাল পর্যন্ত জোরালো উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল। ১৯৯৩-৯৫ সালে প্রণীত এনার্জি পলিসির মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা তৈরি করা, কিন্তু পরবর্তী সময়ে সে উদ্যোগ গতি পায়নি।

দেশে গ্যাস খাতে উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে ২০১৬ সাল থেকে। এর এক বছর পর গ্যাস খাতের মহাপরিকল্পনা (গ্যাস সেক্টর মাস্টারপ্ল্যান-২০১৭) তৈরি করে আওয়ামী লীগ সরকার। বিচার-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ পরিকল্পনায় স্থানীয় অনুসন্ধান-উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলা হলেও মূলত আমদানি-নির্ভরতার পথ বেছে নেওয়া হয়।

Manual1 Ad Code

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে তৎকালীন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কমিশন-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এলএনজি কিনতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে গ্যাস খাতে বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে কমে যায়।

 

এলএনজি আমদানির ওপর বাড়ছে নির্ভরতা

Manual3 Ad Code

দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ওপর নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এই সাত বছরে দেশে মোট ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ৫১ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানির প্রাক্কলন করেছে পেট্রোবাংলা। এর বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো বিগত ২৩ বছরে অর্থাৎ ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পেয়েছে।

Manual3 Ad Code

হাইড্রোকার্বন ইউনিটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বড়পুকুরিয়ার সেন্ট্রাল পার্টের পুনরুদ্ধারযোগ্য মজুতের ৯৫ শতাংশেরও বেশি ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়ে গেছে। বর্তমানে খনিটিতে অবশিষ্ট মজুত দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৭৯ মিলিয়ন টন, যা এর উৎপাদন আয়ুষ্কালের একেবারে শেষ পর্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে। দেশের গ্যাস ও কয়লার মজুত ফুরিয়ে আসা এবং উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এবং বর্তমান দৈনিক সরবরাহ অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট বজায় থাকলে দেশের অবশিষ্ট গ্যাস মজুত দিয়ে মাত্র ১২ বছর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

মন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে আনুমানিক ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বা টিসিএফ। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ।

 

আমদানি-নির্ভরতা নয়, সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎসংকট কাটাতে আমদানিনির্ভর নীতি থেকে সরে এসে নিজস্ব সম্পদ আহরণ এবং দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।

বর্তমান জ্বালানিসংকটের মূল কারণ হিসেবে আমদানিনির্ভর ভুল পরিকল্পনাকে দায়ী করেন অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশীয় জ্বালানি সন্ধান ও উৎপাদন শক্তিশালী না করে সরকার সব সময় আমদানি দিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে, যা ভুল পরিকল্পনা। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা একধরনের ভুল চিন্তা। দেশের জ্বালানি সন্ধান ও ক্যাপাসিটি শক্তিশালী না করে যদি শুধু আমদানির ওপর নির্ভর করা হয়, তবে সে উদ্যোগ কখনো টেকসই হবে না।’

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং সাপ্লাই চেইনের নানা জটিলতার কারণে আমদানি করা জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকে না। জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। জ্বালানি খাতকে টেকসই করতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তুলে ধরে ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব সম্পদ সর্বোচ্চ আহরণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির উৎসগুলোতে জোর দিতে হবে।’

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুৎ সম্ভাবনাগুলো দ্রুত কাজে লাগাতে হবে। জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণে নজর দেওয়া এই মুহূর্তে অনেক বড় প্রয়োজন। আমিনবাজারের ওয়েস্ট টু এনার্জি প্রজেক্টের মতো পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলো দ্রুত চালু করার পরামর্শ দেন তিনি।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম সুষম পররাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মায়ানমার, নেপাল বা ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান রিজিয়নের এই ভূ-রাজনীতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেহেতু আমরা ভৌগোলিকভাবে একটি ছোট দেশ এবং আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই হবে। কারও সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রাখলে কোনো পক্ষই সর্বোচ্চ বেনিফিট পাবে না।’

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একক কোনো দেশের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল না হয়ে বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক ও নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা ১ হাজার ৮২২ দশমিক ৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে সোলার থেকে ১ হাজার ৫২৯ দশমিক ৫১ মেগাওয়াট, বায়ুশক্তি থেকে ৬২ মেগাওয়াট, জলবিদ্যুৎ থেকে ২৩০ মেগাওয়াট এবং বায়োগ্যাস ও বায়োমাস থেকে সামান্য বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। জামালপুরের মাদারগঞ্জের ‘মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট’ ১১০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার কাজ চললেও উৎপাদন শুরু নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এ ছাড়া বগুড়ার সারিয়াকান্দির ১১০ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্পটিও অচিরেই উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়। সামগ্রিকভাবে স্থানীয় গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানো, পারমাণবিক বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণই বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

অপেক্ষায় রূপপুর এনপিপি

এদিকে দেশের জ্বালানিবৈচিত্র্য আনার উদ্যোগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (রূপপুর এনপিপি) কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মাসে প্রথম ইউনিটের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এটি সফল হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হবে। রূপপুর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জটিলতায় সময় কিছুটা দীর্ঘায়িত হতে পারে। ডলারের দাম বৃদ্ধি ও অন্যান্য সংকটে প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সরকার পদ্মা নদীর ওপর রাজবাড়ীর পাংশায় ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে একটি ব্যারাজ এবং ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সেচ ও নদীপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখবে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code