ছাতক প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের হায়দরপুর হাওর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনক এ মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও নানা জল্পনা-কল্পনা দেখা দিয়েছে।
Manual6 Ad Code
নিহত যুবকের নাম বুরহান উদ্দিন (৩৫)। তিনি উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের হায়দরপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুরহান উদ্দিন এলাকায় পরিচিত একজন যুবক ছিলেন। হঠাৎ করে তার মরদেহ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসী হতবাক হয়ে পড়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে হায়দরপুর হাওরের একটি নির্জন স্থানে স্থানীয় কয়েকজন লোক একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, মরদেহটির হাত-পা বাঁধা রয়েছে। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে তারা দ্রুত ছাতক থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
Manual6 Ad Code
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক। বিশেষ করে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়টি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত বহন করছে বলে তাদের ধারণা। তবে তদন্তের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নয় পুলিশ।
Manual1 Ad Code
এ বিষয়ে ছাতক সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মো. মুরসালিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে বুরহান উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
Manual1 Ad Code
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।”
এদিকে, দিনের আলোয় হাওরের মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বুরহান উদ্দিন কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন, তাকে কোথাও হত্যা করে মরদেহ হাওরে ফেলে রাখা হয়েছে কি না, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র।
নিহতের পরিবারও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করবে এবং যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
রহস্যঘেরা এ মৃত্যুর ঘটনায় পুরো হায়দরপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।