নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চুরি থেকে শুরু করে মাদক সেবন, ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছেন কিশোর থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ব্যক্তিরা। তবে এই সকল অপরাধের ঘটনায় বেশিরভাগ পুরুষ ধরা পড়লেও এই বার নগরীতে ছিনতাই কাজে দুই তরুণীকে ধরলো পুলিশ।
Manual1 Ad Code
সূত্র জানায়, পর্যটন খ্যাত নগরী ও প্রবাসী অধ্যুসিত এলাকা এই সিলেট। সিলেটে বিভিন্ন সময়ে অপরাধীরা নানা রকমের অপরাধ সংঘটিত করেন। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি দপ্তর, ব্যাংক-বীমা অফিস, বিভিন্ন জনসমাগমস্থল, দোকানপাট ও শপিংমলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে এই অপরাধ সংঘটিত করে এই চক্রটি। মহনগরীর বিভিন্ন স্থানে চুরিসহ অন্যান্য অপরাধে তরুনী বা মহিলাদের উপস্থিতি থাকলেও ছিনতাইকাজে তাদের তৎপরতা তেমন দেখা যায় নি। ইতোমধ্যে ছিনতাই বা ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে কয়েকজন নারী ধরা পড়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। সর্বশেষ এইবার নগরীর একটি রাস্তায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটান দুই তরুণী।
Manual1 Ad Code
শনিবার (৬ জুন) সিলেট নগরীর চালিবন্দর কাষ্টঘর এলাকায় এক তরুণীর স্বর্ণের নাকফুল ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই নারী। এই ঘটনায় স্থানীয় জনতা তাদের ধাওয়া করে সুবহানীঘাট এলাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে থেকে আটক করে পুলিশের কাছে সৌপর্দ করেন। এ সময় ওই দুই তরুণীর কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের নাকফুলও উদ্ধার করা হয়।
দুই নারী ছিনতাইকারীরা হলেন- বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে নগরীর আখালিয়া নয়াবাজার এলাকায় বসবাসরত তানিয়া (১৮) ও এয়ারপোর্ট থানার বাদামবাগিচা এলাকার বাসিন্দা ঝুমা আক্তার (২০)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী কুলসুমা আক্তার (১৯) নগরীর চালিবন্দর কাষ্টঘর এলাকার প্রবেশমুখে তিন নারী ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা ছুরি দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন ও একটি স্বর্ণের নাকফুল ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে সোবহানীঘাট এলাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তানিয়াকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তানিয়া আটক করে। এঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী কুলসুমা আক্তার কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এয়ারপোর্ট থানার বাদামবাগিচা এলাকা থেকে অপর আসামি ঝুমা আক্তারকেও গ্রেফতার করে। এসময় ঝুমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
Manual3 Ad Code
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া দুই নারী ছিনতাইকারী একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে নগরীতে ছিনতাই নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’