নিজস্ব প্রতিবেদক:
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার সদর থানার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Manual5 Ad Code
রবিবার (২১ জুন) সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচার আদালত-১ এ মামলাটির চার্জ গঠন ও শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিকালে আসামী আদালতে উপস্থিত হলে বিচারক তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাস (বিপি নং-৯৫১৫১৮২৬০১)-এর বিরুদ্ধে তার স্ত্রী প্রভাতী রানী দাশ যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা নং-৫৮/২০২৪ (লাখাই) দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাস স্ত্রীর কাছে ৪ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুকের দাবিতে তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি শিশু সন্তানসহ তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিরোধের কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।
Manual1 Ad Code
বাদীপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের ১১ মে আসামী পুনরায় বাদীর পিত্রালয়ে গিয়ে যৌতুকের টাকা দাবি করেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে গালিগালাজ করে যৌতুক ছাড়া সংসার করবেন না বলে চলে যান। এ ঘটনার পর প্রভাতী রানী দাশ আদালতের আশ্রয় নেন। মামলা দায়েরের পর আদালত প্রথমে আসামীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি জামিন লাভ করলেও আদালতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কোনো সমঝোতা করেননি। পরবর্তীতে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
Manual8 Ad Code
বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবু নঈম মোল্লা, অ্যাডভোকেট মো. শিবলী খায়ের এবং অ্যাডভোকেট আলমগীর।
এদিকে, একজন কর্মরত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকা এবং পরবর্তীতে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।